
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে স্বাক্ষরিত মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে আওয়ামীপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি এবং উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ‘ঢাকা বার সাধারণ আইনজীবী’র ব্যানারে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা মুহাম্মদ ইউনূসের করা মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান। এদিন দুর্নীতির মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে আসা সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর এই মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকালকে ‘অপশাসন’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন যে, বিদায় নেওয়ার ঠিক আগে তিনি বাংলাদেশকে আমেরিকার কাছে বিক্রি করে দিয়ে গেছেন। আনিস আলমগীর হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ইউনূস ও তার উপদেষ্টাদের অবহেলার দায়ে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধন চলাকালীন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা প্রদান করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের ধাক্কা দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে দেন। বিএনপিপন্থী আইনজীবী জাকির হাসান জুয়েল অভিযোগ করেন, আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আদালতের সুশৃঙ্খল পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছেন এবং পলাতক নেত্রী শেখ হাসিনাকে খুশি করতে ভিডিও ফুটেজ তৈরি করছেন। তবে আওয়ামীপন্থী আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তারা শুধুমাত্র বাণিজ্যচুক্তি ও হামের টিকায় গাফিলতির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ন মানববন্ধন করছিলেন এবং সেখানে কোনো জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হয়নি।
এই ধস্তাধস্তি ও পাল্টাপাল্টি স্লোগানকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে সাধারণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মাঝে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা সেখান থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সাংবাদিক আনিস আলমগীর হাজিরা শেষে সংহতি জানিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা জানান, আদালতের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে তারা এ ধরনের রাজনৈতিক উসকানি প্রতিরোধ করবেন। অন্যদিকে, আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, পেশাদারিত্বের জায়গায় তাদের মতপ্রকাশের অধিকারে বাধা দেওয়া হয়েছে।





