‘তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংঘাত হতে পারে’: ট্রাম্পকে শি চিনপিং

0

অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে সামাল দেওয়া হলে দুই পরাশক্তি সরাসরি সংঘর্ষ বা সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। শি জিনপিং তাইওয়ান প্রশ্নকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইস্যু’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা উভয় দেশের জন্য অন্যতম প্রধান অভিন্ন লক্ষ্য হওয়া উচিত। বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং এই অঞ্চলের শান্তি ‘আগুন ও পানির’ মতো যা কখনও একসাথে থাকতে পারে না।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিং বৈঠকে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তাইওয়ান প্রশ্ন সঠিকভাবে পরিচালিত হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। অন্যথায় দুই দেশ মুখোমুখি সংঘাত বা সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে, যা পুরো চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।’ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির প্রচেষ্টা বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করেছে। বেইজিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন একটি অংশ হিসেবে দেখে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও এটি পুনঃএকত্রীকরণের অধিকার রাখে।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে তাইওয়ান ছাড়াও বাণিজ্য শুল্ক, প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প শি জিনপিংকে একজন ‘মহান নেতা’ এবং ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করে সম্পর্কের উন্নয়নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের এই কড়া হুঁশিয়ারি দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তাইওয়ান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত সমর্থনের জন্য তারা কৃতজ্ঞ। বর্তমানে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে তাইওয়ান ইস্যুটি বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টিকে থাকা সবচেয়ে বড় উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

নিউজটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন