
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহারের ফলে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে, যার মধ্যে ভারতীয় রুপি সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
রয়টার্সের নতুন এক জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভারতীয় রুপির মান ৬ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে, যা একে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত করেছে। মূলত ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতের শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি পুঁজি তুলে নিয়েছেন। ডিবিএস ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম না কমলে বা বিদেশি বিনিয়োগ ফিরে না এলে রুপির এই পতন ঠেকানো দুঃসাধ্য হবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই রুপির ওপর এই মন্দার প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
একই সংকটের মুখে পড়েছে ইন্দোনেশিয় রুপিয়াহ। চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপিয়াহর মান ১৭ হাজার ৫৩৫-এ পৌঁছেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হওয়ায় তেলের বাড়তি দাম ইন্দোনেশিয়ার চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা দেশটির মুদ্রার মান ধরে রাখা কঠিন করে তুলছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে বিশেষ হস্তক্ষেপ বা ‘স্মার্ট ইন্টারভেনশন’ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

বিপরীতে, প্রযুক্তি খাতের বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতের অভাবনীয় আয়ের সুবাদে দক্ষিণ কোরিয়ান ওন এবং তাইওয়ান ডলারের ওপর থেকে মন্দার চাপ কিছুটা কমেছে। এছাড়া মালয়েশিয়া নিজে একটি তেল-গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এবং সিঙ্গাপুরের শক্তিশালী অর্থনৈতিক নীতির কারণে এই দুটি দেশের মুদ্রা বর্তমানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, থাই বাথের ওপর চাপ কিছুটা শিথিল হলেও চলতি বছরে এর মান ২.৭২ শতাংশ কমেছে।





