চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ২ যুবককে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা

0

অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক দুই যুবককে ‘এলাকার ছেলে’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ওসির কাছ থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা।

ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও টেম্পোস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী মহল্লার বাসিন্দা শোয়েব মোল্লা (২৯) ও কাফুরিয়া সদরদী মহল্লার সোহান মুন্সিকে (২৮) আটক করে পুলিশ। শোয়েব ওই এলাকার সাবেক কাউন্সিলর লিয়াকত মোল্লার ছেলে এবং সোহান শাহী মুন্সির ছেলে। আটকের পর বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা ও আটককৃতদের অভিভাবকরা থানায় বসে ওসির সাথে কথা বলছেন। ভিডিওতে ওসি মিজানুর রহমানকে বলতে শোনা যায় যে, ওই যুবকদের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি ও অপকর্মের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

ভিডিওতে আইয়ুব মোল্লা ওসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, আটককৃতরা তাদের এলাকার ছেলে এবং তাদের ভুলত্রুটি থাকলে তারা তা সংশোধনের চেষ্টা করবেন। ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ওসি পাল্টা শর্ত দেন যে, পুনরায় কোনো চাঁদাবাজি বা অত্যাচার হলে তার দায়ভার বিএনপি নেতা ও অভিভাবকদের নিতে হবে। এই কথোপকথনের পর বিএনপি নেতার সুপারিশে এবং অভিভাবকদের জিম্মায় পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। আইয়ুব মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করে দাবি করেন, বাসস্ট্যান্ডের কাউন্টার দখল নিয়ে অন্য গ্রুপের কথিত অভিযোগে তাদের ধরা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক ও এলাকার খাতিরে তিনি তাদের ছাড়াতে গিয়েছিলেন।

ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি না হলেও ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোলচত্বর এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন থেকে ৩০-৫০ টাকা করে চাঁদা তোলার অভিযোগে ওই দুজনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে বড় কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকায় মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে থানার ভেতরের ভিডিওটি কীভাবে বাইরে ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

নিউজটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন