উচ্চশিক্ষার মানদণ্ড ফেরাতে রোডম্যাপ চূড়ান্ত: নেতৃত্বে ঢাকা ও বুয়েট উপাচার্য

0

অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য প্রফেসর এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণা খাতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষের রোডম্যাপ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমেই জাতীয় উন্নয়নে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি স্বপ্ন ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ কেবল জ্ঞান আহরণকারী রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে জ্ঞান সৃজনকারী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি বর্তমান বরাদ্দকে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর দাবি জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর মো. আখতার হোসেন খান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর এ বি এম বদরুজ্জামান। কর্মশালায় উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা, পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (KPI) ভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা, পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার পরিধি বাড়ানো এবং বেসরকারি শিল্পখাতের অর্থায়নে বিশেষ গবেষণা তহবিল গঠন করা।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা আরও পরামর্শ দেন যে, উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক গবেষণা কেন্দ্র ও প্রযুক্তি স্থানান্তর অফিস গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈশ্বিক মানদণ্ড অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরিশেষে, বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানমুখী গবেষণা এবং আধুনিক ল্যাব সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে কর্মশালাটি সমাপ্ত হয়।

নিউজটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন