
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
১৩ বছর আগের শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাংবাদিক দম্পতি মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে কড়া নিরাপত্তায় ডা. দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে প্রিজন ভ্যানে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন এবং পুনরায় ৭ জুন আদালতে হাজির করার নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযুক্তরা অন্য মামলায় আগেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রসিকিউশন মোট ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শাপলা চত্বরে ওই অভিযানের সময় ডা. দীপু মনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনি আন্তর্জাতিক মহলে এই অভিযানকে ‘উচ্ছৃঙ্খল মানুষ নির্মূল’ হিসেবে প্রচার করেছিলেন। অন্যদিকে, একাত্তর টেলিভিশনের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ওই মহাসমাবেশ নিয়ে উসকানিমূলক সংবাদ ও বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক ও জুনায়েদ আল হাবিবের পক্ষে আজিজুল হক এই অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন, যেখানে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এই মামলায় বর্তমানে আরও ছয়জন হাই-প্রোফাইল আসামি কারাগারে রয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক এবং মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান প্রমুখ। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময়কার সংঘাত ও হত্যাযজ্ঞে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় মোট ৫৮ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। আদালত আগামী ৭ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের সেই সময়ের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।





