
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
চট্টগ্রামের নগরের কাঠগড় জেলেপাড়ার মৎস্যজীবী সুমন জলদাস তাঁর পাঁচ মাসের শিশুসন্তান জয়াকে নিয়ে এক চরম সংকটে পড়েছেন; হামে আক্রান্ত শিশুটি দীর্ঘ চিকিৎসায় সুস্থ হলেও হাসপাতালের ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়ছে না।
গত ২০ এপ্রিল জয়া দাসের শরীরে জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে প্রথমে তাকে একটি দাতব্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দেন। সরকারি হাসপাতালে কোনো শয্যা খালি না পেয়ে বাধ্য হয়ে ৩০ এপ্রিল নগরের জিইসি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে জয়াকে ভর্তি করেন তার বাবা সুমন জলদাস। দীর্ঘ ১৫ দিন আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর শিশুটি এখন সুস্থ। তবে সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২ লাখ ২৯ হাজার টাকার একটি বিল ধরিয়ে দিলে বিপাকে পড়ে পরিবারটি। সুমন জানান, সঞ্চিত অর্থ, আত্মীয়দের থেকে ধার নেওয়া এবং স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে এ পর্যন্ত তিনি ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু বাকি প্রায় দেড় লাখ টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য তাঁর নেই। টাকার অভাবে সুস্থ সন্তানকে ঘরে ফেরাতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এই মৎস্যজীবী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি নিউমোনিয়াজনিত জটিলতা নিয়ে অত্যন্ত মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি হয়েছিল। তাকে হাই ফ্লো অক্সিজেনসহ উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে এবং সেই খরচ অনুযায়ীই বিল তৈরি হয়েছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে তারা চিকিৎসক ফি ও সার্ভিস চার্জ মওকুফ করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, সুমনের পরিবার জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২ লাখ টাকার নিচে কোনোভাবেই জয়াকে ছাড়তে রাজি হচ্ছে না। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা, কারণ জয়ার অসুস্থতার ধকল সইতে না পেরে গত মঙ্গলবার থেকে তার মা রীতা দাসও সিজারিয়ান জটিলতা নিয়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
৪০ বছর বয়সী সুমন জলদাস সমুদ্রে মাছ ধরে সাত সদস্যের সংসার চালান। পরপর চার ছেলের পর জন্ম নেওয়া একমাত্র মেয়ের আগমনে পরিবারে খুশির জোয়ার এসেছিল। কিন্তু সেই খুশি এখন দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হয়েছে। টাকার অভাবে বড় ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে, মেজ ছেলেও শ্রমিকের কাজ করে। এখন স্ত্রীর অসুস্থতা এবং সুস্থ মেয়ের হাসপাতালের বিল মেটানো—এই দুই যুদ্ধের মাঝে পড়ে অসহায় এই পিতা সমাজের বিত্তবান ও কর্তৃপক্ষের মানবিক সহায়তা কামনা করছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সুমন জানান, একদিকে সুস্থ মেয়েকে বন্দি দশা থেকে মুক্ত করা আর অন্যদিকে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা, এই দুইয়ের চাপে তিনি এখন পুরোপুরি নিঃস্ব।





