খেলাধুলা নিয়ে জুয়ায় জড়িতদের ১০ বছর কারাদণ্ডের পক্ষে তামিম

0

অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ক্রীড়াঙ্গনে বেটিং ও দুর্নীতি দমনে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন প্রণয়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাড-হক কমিটির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশের ক্রিকেটের সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। দীর্ঘদিনের খেলোয়াড়ী জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র খেলাধুলা থেকে নিষিদ্ধ করাই দুর্নীতির সমাধান নয়, বরং অপরাধীদের মনে জেল-হাজতের ভয় থাকা জরুরি। তিনি জানান, খেলাধুলা নিয়ে জুয়া বা বেটিংয়ে জড়িতদের জন্য ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন করার বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যেই জাতীয় সংসদের স্পিকার, ক্রীড়ামন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছেন। তামিমের মতে, বর্তমান সময়ে দুর্নীতিবাজরা জানে যে ধরা পড়লে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা, কিন্তু যদি এটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়ে কারাদণ্ডের বিধান থাকে, তবে দুর্নীতির প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।

সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল তরুণ প্রজন্মের বিপথগামী হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আগেকার সময়ে ক্রিকেটাররা শুধু জয়-পরাজয় আর পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবত, কিন্তু বর্তমানে অল্পবয়সী খেলোয়াড়রাও বেটিং বা বাজির মতো অন্ধকার জগতে পা বাড়াচ্ছে। তিনি মনে করেন, সমাজ যেমন চুরি করাকে অপরাধ মনে করে এবং এর জন্য শাস্তির বিধান রেখেছে, ক্রিকেটে বেটিং বা দুর্নীতির ক্ষেত্রেও একই মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বিসিবির আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও তিনি সাহসী মন্তব্য করেছেন। বিসিবির তহবিলে থাকা প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা অলস ফেলে না রেখে খেলোয়াড়দের বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য ব্যয় করার পক্ষে মত দেন তিনি। ভারত, পাকিস্তান বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোর সাথে সমানতালে লড়াই করতে হলে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ করা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।

অতীতের স্মৃতিচারণ করে বিসিবি প্রধান ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সেই আবেগকে পুঁজি করে ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সঠিক আলোচনা ছাড়াই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ হাতছাড়া করার মতো সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি জানান যে, বর্তমানে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত চমৎকার এবং ভারতীয় দলের জন্য এখানে কোনো ঝুঁকি নেই। বিসিসিআই এবং বিসিবির মধ্যে কোনো অমীমাংসিত সমস্যা নেই উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশে একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রধান মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

নিউজটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন