
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যাঘাতের কারণে। হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জ্বালানি জাহাজ, বুকিং বাতিল এবং স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে আমদানির ফলে অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার।
জানা গেছে, এক লাখ টন ক্রুড অয়েল ও ৬৩ হাজার টন এলপিজিবোঝাই দুটি জাহাজ ৪২ দিন ধরে আটকে আছে হরমুজ প্রণালিতে। যুদ্ধবিরতির সুযোগ থাকলেও কূটনৈতিক জটিলতায় এগুলো দেশে ফিরতে পারেনি। একইসঙ্গে চলতি মাসে বুকিং থাকা অন্তত ৯টি এলএনজি কার্গোও আসছে না, এবং আগামী মাসের নির্ধারিত পাঁচটি কার্গোর বুকিংও বাতিল হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস হিসেবে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে ব্যয়চাপ, পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ পড়ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ আপাতত স্বাভাবিক থাকলেও এলএনজি ও ক্রুড অয়েলের ঘাটতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একইসঙ্গে দেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন সীমিত করছে।
সরকার ইতোমধ্যে স্পট ও জিটুজি পদ্ধতিতে পাঁচ লাখ টনের বেশি জ্বালানি তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্য এবং ডলারের দর বৃদ্ধির কারণে ব্যয় আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে সামান্য আন্তর্জাতিক সংকটেই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। স্বল্পমেয়াদে স্পট মার্কেট থেকে আমদানি চালিয়ে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই, তবে এতে অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে।
সরকারি হিসাবে, শুধু এলএনজি আমদানিতেই অতিরিক্ত হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে ভর্তুকি বাজেট ও ডলার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায়।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকটের কারণে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে।





