বাঁ চোখ ভেদ করে মাথায় ঢুকেছিল গুলি, ৭ দিনের লড়াই শেষে হার মানল ১১ বছরের রেশমী

0

অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামীতে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রেশমী আক্তার দীর্ঘ সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে।

গত ৭ মে দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলিতে দুই পক্ষের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় নিজ ঘর থেকে মাত্র ২০ টাকা হাতে নিয়ে মায়ের জন্য পান কিনতে বেরিয়েছিল ১১ বছর বয়সী শিশু রেশমী আক্তার। চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে চলা সেই এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের সময় একটি গুলি রেশমীর বাঁ চোখ ভেদ করে সরাসরি মাথার ভেতরে ঢুকে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ঘটনার রাতে সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের শয্যা খালি না থাকায় প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরদিন সকালে অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হলেও বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের তথ্যমতে, গুলিটি রেশমীর মস্তিষ্কের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে গিয়েছিল। শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকরা তার মাথায় অস্ত্রোপচার করার সাহস পাননি এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রেশমী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল এবং রিয়াজ-সাবেরার পাঁচ সন্তানের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। চঞ্চল স্বভাবের এই শিশুটি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতো না, কিন্তু ওইদিন মায়ের আদেশ পালন করতে গিয়েই সে মর্মান্তিক পরিস্থিতির শিকার হয়।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, এই নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৬ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাসির উদ্দিন নামে এক প্রবাসফেরত ব্যক্তিকে হত্যার মধ্য দিয়ে। সেই হত্যাকাণ্ডের জেরে নিহতের সহযোগীরা হাসান রাজু নামে এক যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে নগরে এসে গুলিবর্ষণ শুরু করে। সন্ত্রাসীদের সেই লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতেই প্রাণ হারায় নিষ্পাপ রেশমী এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান রাজু নামে এক যুবক। রেশমীর বড় ভাই তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত এবং তার অন্য ভাই-বোনদের মধ্যে একজন বিবাহিত। সামান্য পানের জন্য ঘর থেকে বের হওয়া শিশুটির এই অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিউজটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন