
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
ভারত থেকে আসা সিন্থেটিক ওপিওয়েড ‘ট্যাপেন্টাডল’ ট্যাবলেটের কারণে বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, যা সেখানে ‘জম্বি ড্রাগ’ কুশের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহারের ফলে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বার্তা সংস্থা এএফপির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ভারতের বিভিন্ন জেনেরিক ওষুধ কোম্পানি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ভারত সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার তোয়াক্কা না করেই লাখ লাখ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট আফ্রিকা পাঠাচ্ছে। সাধারণ ব্যথার ওষুধের প্যাকেটে ভরা এই ড্রাগগুলো নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন এবং ঘানার মতো দেশগুলোর রাস্তার ধারের দোকানে সহজলভ্য। বিশেষ করে সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়ায় এই মাদকের প্রভাবে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী ফ্রিটাউনে মাত্র তিন মাসে ৪০০-র বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আসক্তরা এই ট্যাবলেট গুঁড়ো করে কুখ্যাত মাদক ‘কুশ’-এর সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করছে, যার ফলে ব্যবহারকারীরা অনেকটা ‘জম্বি’ বা জীবন্ত লাশের মতো আচরণ করে। সিয়েরা লিওনের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রের ৯০ শতাংশ রোগীই এই ট্যাপেন্টাডল মিশ্রিত কুশ সেবনে আসক্ত।
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, গুজরাটের গুজরাট ফার্মাসিউটিক্যালস, মেরিট অর্গানিকস, ম্যাকডব্লিউ হেলথকেয়ার এবং পিআরজি ফার্মার মতো ভারতীয় কোম্পানিগুলো উচ্চমাত্রার (২২৫ ও ২৫০ মিলিগ্রাম) ট্যাপেন্টাডল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। শুল্কের নথিতে অনেক সময় এগুলোকে ‘মানুষের ব্যবহারের জন্য ক্ষতিহীন ওষুধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। মূলত মোটরসাইকেল ট্যাক্সি চালক, খনি শ্রমিক এবং কুলিরা হাড়ভাঙা খাটুনি আর শরীরের ব্যথা ভুলতে এই ট্যাবলেটের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে শেষ পর্যন্ত আসক্ত হয়ে পড়ছে। নাইজেরিয়ার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বোকো হারামের যোদ্ধারাও সাহসের জন্য এই মাদক ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরাও এখন এই বড়ি ভেঙে এনার্জি ড্রিংকের সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের এই আগ্রাসী ও অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্য আফ্রিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।





