
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
নিত্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্যের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং দীর্ঘ ১১ বছরের বেতন বৈষম্য দূর করতে সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে স্কেল ঘোষণার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
দীর্ঘদিন নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা না হওয়ায় দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্রমাগত ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছিল। ২০১৫ সালের সর্বশেষ পে স্কেলের পর বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে বিদ্যমান বেতন কাঠামো অসংগতিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ‘জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫’-এর সুপারিশ দ্রুত প্রকাশের দাবি জানায়। এই প্রেক্ষাপটে অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন পে স্কেলের একটি রূপরেখা তৈরি করেছে, যার জন্য বাজেটে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ভাবা হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় এই পে স্কেল একবারে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে মূল বেতনের প্রায় অর্ধেক বৃদ্ধি করা হতে পারে। এতে করে প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। পূর্ণাঙ্গ নবম পে স্কেল এবং এর আনুষঙ্গিক সকল ভাতা পুরোপুরি কার্যকর হতে ২০২৮-২৯ অর্থবছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মূলত দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এই পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। এছাড়া বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়াও উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রসর হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে আগামী বাজেটে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।





