‘ছেলে মরার পরে শুনলাম যুদ্ধে গেছিল, আগে জানলে রাশিয়া যাইতে দিতাম না’

0

অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনীর হয়ে লড়তে গিয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার আবদুর রহিম নামের এক যুবক ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন।

পরিবারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর দালালের মাধ্যমে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী আবদুর রহিম। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের আজিজুল হক ও রমিছা খাতুন দম্পতির বড় ছেলে রহিম এর আগে সাত বছর সিঙ্গাপুরে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করেছিলেন। ৫ লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় যাওয়ার পর পরিবার জানত তিনি সেখানেও একই পেশায় কাজ করছেন। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, উচ্চ বেতনের প্রলোভনে পড়ে তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এক মাসের প্রশিক্ষণ শেষে গত ১ মে তিনি কাজে যোগ দেন এবং তার পরদিনই ২ মে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের রিয়াদ রশিদ নামের অন্য এক নিহত তরুণের পরিবারের মাধ্যমে রহিমের মৃত্যু সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শুরু হয় শোকের মাতম। ওই একই হামলায় আহত লিমন দত্ত নামের এক বন্ধু ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মাসে রহিম ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন এবং আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ২ মাস পর পরিবারের সব কষ্ট দূর হবে। মা রমিছা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, দালালেরা বিদ্যুৎকেন্দ্রে চাকরির কথা বলে রহিমকে ভুল বুঝিয়ে সেনাবাহিনীতে নিয়েছিল; ছেলে যুদ্ধে যাওয়ার খবর আগে জানলে তারা কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতেন না।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রহিমের বাড়িতে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শনে যান। তারা শোকার্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেন এবং মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়ায় সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। সংসদ সদস্য কামরুল হাসান জানিয়েছেন, মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরিবারকে আবেদন করতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে পরিবারটিকে মানবিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

পেশায় মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক রহিমের বাবা আজিজুল হক এখন কেবল তার সন্তানের নিথর দেহটি শেষবারের মতো দেখার জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। এক সময়ের সিঙ্গাপুর প্রবাসী এই যুবকের অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দালালের খপ্পরে পড়ে এভাবে বিদেশের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারানোর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন