
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় চুরির অপবাদে নির্মম গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর এক যুবককে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখা অফিস কক্ষের ভেতরেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (৬ মে) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যবর্তী যেকোনো এক সময়ে সদর উপজেলার তরা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয়ের ভেতরে এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। নিহত ওই যুবকের নাম কৃষ্ণ রাজবংশী। তিনি মানিকগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত বান্দুটিয়া মাঝিপাড়া এলাকার বাসিন্দা খুদিরাম রাজবংশীর পালক ছেলে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজার সূত্রে জানা যায়, তরা মাছের পাইকারি আড়ত থেকে মাছ চুরির একটি কথিত অভিযোগে কৃষ্ণ রাজবংশীকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় তরা বাজার কমিটির কয়েকজন লোকজন। আটকের পরপরই চুরির অপবাদ দিয়ে ওই যুবকের ওপর অমানবিক গণপিটুনি চালানো হয়। এরপর মারাত্মক আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার বা চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে, তরা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসের একটি কক্ষে জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে আটকে রাখা হয়। এভাবে আটকে রাখার পর লোকলজ্জা, শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক ক্ষোভে সকাল থেকে দুপুরের কোনো এক সময়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে নিজের গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন কৃষ্ণ রাজবংশী। পরবর্তীতে দুপুরের দিকে কৃষ্ণ রাজবংশীর ঝুলন্ত আত্মহত্যার খবরটি জানাজানি হলে তরা বাজার কমিটির কয়েকজন অসাধু নেতা ও লোক আইনি ঝামেলা এড়াতে তড়িঘড়ি করে ঘরের দরজা খুলে মরদেহটি নিচে নামিয়ে পুলিশকে না জানিয়েই অন্যত্র লুকিয়ে বা সরিয়ে ফেলার অপচেষ্টা চালায়। তবে বাজার কমিটির এই বেআইনি ও ধামাচাপা দেওয়ার কাজে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও উপস্থিত জনতা তীব্র বাধা প্রদান করলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাজার কমিটির অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে এবং এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
অফিস কক্ষে যুবকের আত্মহত্যার এই চাঞ্চল্যকর খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘটনাটি শোনার পরপরই সেখানে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত কৃষ্ণ রাজবংশীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করার আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। এই চুরির অভিযোগ, গণপিটুনি এবং আটকে রেখে আত্মহত্যার পুরো বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং তদন্ত শেষে এই নির্মম ঘটনার সাথে জড়িত বাজার কমিটির দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ওসি আশ্বস্ত করেছেন।





