
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার মামলার প্রধান আসামি মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (৩০) ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তারের পর বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার (৬ মে) ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার মূল হোতা আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪ এর একটি আভিযানিক দল। র্যাব-১৪ এর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার এড়ানোর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত চতুরতার সাথে আসামি সাগর নিজের কাছে কোনো মোবাইল ফোন রাখতেন না, যার ফলে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তার সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে র্যাব-১৪ ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং মাঠপর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা সংক্রান্ত ডিএনএ টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট এবং ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার নানাকে জড়িয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান স্পষ্ট করে বলেন, মূল আসামি গ্রেপ্তারের আগে কোনোভাবেই ডিএনএ পরীক্ষা করার আইনি সুযোগ নেই। যেহেতু আসামি আগে গ্রেপ্তারই হয়নি, তাই ডিএনএ টেস্ট হওয়ার তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করতে হলে এখন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। একই সাথে শিশুটির সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি চিকিৎসার মাধ্যমে নিশ্চিত করা নারী চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তারের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া শঙ্কার বিষয়ে র্যাব অধিনায়ক জানান, নেত্রকোণা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের (এসপি) মাধ্যমে এই চিকিৎসকের নিরাপত্তার বিষয়টি সরাসরি তদারকি করা হচ্ছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা ওই চিকিৎসককে হুমকি দিচ্ছে, তাদের শনাক্ত করতে র্যাবের বিশেষ সাইবার টিম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও কাজ করছে। এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া ৩০ বছর বয়সী আমান উল্লাহ সাগর নেত্রকোণার মদন উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা এবং শিক্ষক। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুটি একই স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা এবং সে তার নানির সঙ্গে বসবাস করে ওই কওমি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। শিশুটির পারিবারিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত অবহেলিত; তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ এবং মা নিজের ও সন্তানের জীবিকার তাগিদে সিলেটের একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। মামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ২ অক্টোবর বিকেলে মাদরাসা ছুটি হওয়ার পর অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষক সাগর শিশুটিকে ফুসলিয়ে তার ব্যক্তিগত কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন থাকলেও সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন নজরে এলে তার মা তাকে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন করান। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় যে, অবুঝ শিশুটি তখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই নির্মম ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নেত্রকোণার মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষক সাগর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। আইনি ধরপাকড় এড়াতে তিনি প্রথমে গাজীপুর, এরপর টঙ্গী এবং সর্বশেষ ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় অবস্থান বদল করে লুকিয়ে ছিলেন, যেখান থেকে অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।





