
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
চট্টগ্রামে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত টাকা ফেরত এবং ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন।
তারল্য সংকট ও নানা অনিয়মের কারণে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক নামের পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এই আন্দোলনের ডাক দেন। বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যানারে শত শত আমানতকারী নগরের আগ্রাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাংকগুলোতে তাদের কষ্টার্জিত জমাকৃত অর্থ আটকে রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে ব্যাংকগুলো থেকে মাত্র এক-দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে গ্রাহকরা তাদের দৈনন্দিন পারিবারিক খরচ ও ব্যবসা পরিচালনায় চরম সংকটে পড়েছেন এবং আসন্ন ঈদুল আজহার কোরবানির প্রস্তুতি নিয়েও অনেকে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে আমানতকারীরা ‘আমার টাকা ফেরত চাই’, ‘হেয়ার কাট মানি না’, ‘আমানত নিয়ে টালবাহানা চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে চারপাশ মুখরিত করে তোলেন। পঁচিশ বছর সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত থাকা হেফাজ নামের এক ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রবাসে কষ্ট করে অর্জিত সব টাকা তিনি ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন, অথচ এখন নিজের প্রয়োজনে সেই টাকা তুলতে পারছেন না। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি হলো, গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, টাকা উত্তোলনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বর্তমান সীমাবদ্ধতা অনতিবিলম্বে তুলে নিতে হবে এবং ব্যাংকগুলোতে দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, এই ব্যাংক সংকটের জেরে গত কয়েকদিন ধরেই চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও খাতুনগঞ্জ এলাকাতেও আমানতকারীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ করেছেন এবং বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় তালা দেওয়ার মতো কর্মসূচিও পালন করেছেন। বুধবারের এই বিক্ষোভ কর্মসূচির একপর্যায়ে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা আমানতকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত আন্দোলনকারীরা পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান।





