
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
মহান মে দিবসের ঐতিহাসিক ক্ষণে নিজেকে একজন সাধারণ শ্রমিকের কাতারে শামিল করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার এই সংকল্পে তিনি শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তার মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও।
শুক্রবার (১ মে, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অনন্য ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত হাজারো শ্রমিকের উদ্দেশ্যে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি ক্ষমতার গদিতে আসীন কোনো শাসক হিসেবে নয়, বরং একজন বিনয়ী শ্রমিক হিসেবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চান। তিনি বলেন, “আপনাদের পাশে থেকে একজন শ্রমিক হিসেবেই আমি নাম লেখাতে চাই। আপনারা যেভাবে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে এই দেশটাকে গড়ে তুলছেন, সেই দেশ গড়ার মিছিলে আমিও আপনাদের সহযোদ্ধা হতে চাই।” এসময় তিনি মঞ্চে উপস্থিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদেরও নির্দেশ দেন নিজেদের ‘শ্রমিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দেশ ও জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করার জন্য।
সমাবেশের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতাকে হাত তুলিয়ে শপথ করান যেন সবাই নিজেকে দেশ গড়ার একনিষ্ঠ শ্রমিক হিসেবে মনে করেন। তিনি বিগত সরকারের দীর্ঘ এক যুগের শাসনকালকে স্বৈরাচারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, সেই সময়ে কেবল শ্রমিকরা নয়—ছাত্র, শিক্ষক, নারীসহ দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষ তাদের মৌলিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতি, শিল্প-কলকারখানা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে লুটপাটের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ শ্রমিকের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কারণেই এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের প্রতিটি খেটে খাওয়া মানুষের শ্রমের মর্যাদা এবং অধিকার নিশ্চিত করা গেলেই একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব। স্বৈরাচার বিদায়ের পর এখন সময় এসেছে ধ্বংস হয়ে যাওয়া খাতগুলোকে পুনর্গঠন করার। তিনি অঙ্গীকার করেন, শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন করেই নতুন বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে। জনগণের সেবককে ‘শ্রমিক’ হিসেবে বিবেচনা করার এই নতুন রাজনৈতিক দর্শন উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করে।





