বিদ্যুৎ নেই, আছে শুধু বিল! ৪২ হাজার কোটি টাকার হরিলুট কি থামবে না?

0

অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক 

দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি থাকলেও থামছে না লোডশেডিং। একদিকে বিদ্যুৎ না পেয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে ‘ভুতুড়ে বিল’ আর ‘ক্যাপাসিটি চার্জের’ নামে জনগণের পকেট কাটার মহোৎসব চলছে।

সংকটের নেপথ্যে যা ঘটছে:

• উৎপাদন বনাম চাহিদা: দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ১৫-১৬ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবুও কেন লোডশেডিং? উত্তর হলো—ডলার সংকটে জ্বালানি (তেল-গ্যাস) কিনতে না পারায় অর্ধেকের বেশি কেন্দ্র অলস পড়ে আছে।

• ক্যাপাসিটি চার্জের ফাঁদ: বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ‘বসে বসে’ টাকা পাওয়ার চুক্তিতে গত বছর কেন্দ্রগুলোকে দেওয়া হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছর এই ভর্তুকি ৬২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

• দায়মুক্তি আইন: ২০১০ সালের বিতর্কিত ‘দায়মুক্তি আইন’ ব্যবহার করে টেন্ডার ছাড়াই পছন্দের লোকদের কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা এই লুটপাটের পথ প্রশস্ত করেছে।

• শোষিত জনগণ: অলস কেন্দ্রগুলোর ভর্তুকি মেটাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এর ওপর যোগ হয়েছে রিডিং ছাড়া ‘ভুতুড়ে বিলের’ যন্ত্রণা।

সমাধান কী?

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস উত্তোলন ও সৌরবিদ্যুতে গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে অবিলম্বে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পে’ (বিদ্যুৎ না দিলে টাকা নেই) নীতি কার্যকর করার দাবি উঠেছে।

জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই হরিলুট নিয়ে দেশজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। গত মাসে আপনার বিদ্যুৎ বিল কেমন এসেছে? কমেন্টে আমাদের জানান।

নিউজটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন