
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
রাজশাহীর রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই দাবি জানান এবং একই সঙ্গে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রমের কারণে শিক্ষা ও গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। তাদের ভাষায়, “ক্যাম্পাসে কোনো ছাত্র রাজনীতি চাই না। এই রাজনীতি সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে, শিক্ষার পথ রুদ্ধ করছে। অতীতের অস্থির পরিস্থিতি আমরা আর দেখতে চাই না।” তারা স্পষ্ট করে বলেন, অবিলম্বে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় আবার সম্পূর্ণ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে ফিরে যেতে পারে।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সব ধরনের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধেই কঠোর অবস্থান নেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, ক্যাম্পাসকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. রবিউল ইসলাম সরকার এ বিষয়ে বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। একদল প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে চায়, অন্যদিকে আরেক পক্ষ তা নিয়ে আপত্তি তুলছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করছি।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংলাপের পথেই এগোতে চায়।
অন্যদিকে, ছাত্রদল সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কাগজে-কলমে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে একটি সংগঠন গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনে ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে আগের রাতের একটি ঘটনা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের টাঙানো একটি ব্যানার পোড়ানোকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের একটি অংশের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। রাতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত দেখতে চায়, অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ। ফলে প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে—কিভাবে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রেখে এই দ্বন্দ্বের স্থায়ী সমাধান করা যায়।





