ডিসির নতুন মিশন, গ্রামেও শুরু ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচী!

0

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাইরের সাতটি ইউনিয়নে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ শুরু করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। ‘গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় এক লাখ বৃক্ষরোপণের পর এবার তার নজর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে।

ফতুল্লা, আলীরটেক, কুতুবপুর, বক্তাবলী, কাশীপুর, গোগনগর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের জন্য দুটি করে বিশেষভাবে নির্মিত বর্জ্য পরিবহন ভ্যান সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (৩০ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে দুটি ভ্যান হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সিটি কর্পোরেশনের আওতায় থাকা এলাকাগুলোতে আবর্জনা পরিষ্কারের ব্যবস্থা থাকলেও সীমানার বাইরে ইউনিয়নগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন।।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী জানান, “এটি একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। প্রাথমিকভাবে ফতুল্লা ইউনিয়নকে দুটি ভ্যান সরবরাহ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালনা করবে।”

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “নারায়ণগঞ্জ জেলার বাস্তবতা হচ্ছে এই জেলার পুরোটাই শহরের মধ্যে পড়েছে। পুরো জেলা জুড়েই শহর। এখানে আসলে গ্রাম আছে এমন কোনো প্রভাব এই জেলায় নেই। আমরা যখন দেখলাম নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৭২ বর্গ কিলোমিটারের বাইরেও শহরের যে এলাকাগুলো রয়েছে, সেখানে প্রচুর পরিমাণে বর্জ্য—বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিল্পকারখানার বর্জ্য রয়েছে—সেই বর্জ্যগুলো সঠিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে প্রাথমিক একটি কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।”

তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে আপনারা জানেন, আমাদের ‘গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির একটি শ্লোগান ছিল—‘নারায়ণগঞ্জ হবে সবুজে ঘেরা, প্র্যাচের ড্যান্ডি হবে বিশ্বসেরা।’ আমরা যদি এই জেলাকে সেরা করতে চাই, তাহলে সব দিক থেকেই সেরা করতে হবে। আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দিক থেকেও সেরা করতে হবে। পানির ব্যবস্থাপনাও ভালো করতে হবে। রাস্তার যানজট কমাতে হবে। আমরা যদি সত্যিই সব দিক থেকে সেরা করতে চাই, সেই কাজগুলো করতেই হবে।”

“তারই একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আপনারা দেখেছেন, আমরা দুটি ভ্যান দিয়ে শুরু করছি। উপজেলা পরিষদের বাইরে যে ময়লাগুলো জমবে, সেগুলো এই ভ্যান দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে রাখা হবে। এটি আমাদের একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। আমরা দেখব এটি কতটুকু কার্যকরভাবে কাজ করে। সফল হলে পরে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। পরবর্তীতে আমরা এটি সারাজেলা ব্যাপী সম্প্রসারিত করব।”

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “আমরা সবাইকে নিয়ে এই শহরকে একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই শহরের উপরে অনেক চাপ। এত ছোট শহর, কিন্তু এত বেশি জনবসতিপূর্ণ। আমরা যদি এখনই এই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম গ্রহণ না করতে পারি, যদি পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন না করি, যদি বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করি, তাহলে এই শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠবে।”

“সেই চিন্তাভাবনা থেকেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন’ কর্মসূচির আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে আজ থেকেই সিটি কর্পোরেশনের বাইরের এলাকাগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।”

“এই কার্যক্রম শুধু পরিচ্ছন্নতাই নিশ্চিত করবে না, বরং পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত নগর গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এতে নাগরিকদের জীবনমান উন্নত হবে এবং নারায়ণগঞ্জ হবে একটি আদর্শ পরিচ্ছন্ন শহর।”

ভ্যানগুলো সম্পর্কে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম সারোয়ার জানান, “বর্জ্য পরিবহনের জন্য তৈরি এই ভ্যানগুলোতে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণ লিকুইড ব্যাটারির তুলনায় অধিক টেকসই ও শক্তিশালী। প্রতিটি ব্যাটারির ওয়ারেন্টি তিন বছর, যেখানে লিকুইড ব্যাটারির ওয়ারেন্টি মাত্র ছয় মাস।”

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিউ জিতু স্টিলের ম্যানেজার আক্তার হোসেন জানান, “আমাদের ছাড়াও আরও দুটি প্রতিষ্ঠান কোটেশন জমা দিয়েছিল। তবে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে আমরা এই কার্যাদেশ পেয়েছি।”

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশনের বাইরে এসব এলাকা থেকে সংগৃহীত বর্জ্য বক্তাবলী ইউনিয়নের নির্ধারিত স্থানে নিরাপদভাবে ফেলা হবে।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ রক্ষায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচি শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, এবার পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করছে।

নিউজটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন