
অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত পেশাদার শুটার রাজ সিংকে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও বিশেষ তদন্তকারী দল (এসটিএফ) যৌথ অভিযান চালিয়ে অযোধ্যা হাইওয়ের কাছ থেকে রাজ সিং নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত রাজ সিং একজন পেশাদার শুটার এবং এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে তার গভীর যোগসূত্র রয়েছে। রাজ সিং উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার আনন্দ নগরের বাসিন্দা এবং স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি নিজেকে বিজেপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে জাহির করতেন এবং এলাকায় বিজেপির পতাকা লাগানো কালো স্করপিও গাড়ি ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, রাজ সিং অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার সাধারণ সম্পাদক এবং এর আগে বালিয়া নগর পালিকা পরিষদের নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এমনকি তিনি আসন্ন চিলকাহার ব্লকের নির্বাচনে ব্লক প্রমুখ পদে লড়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। রাজ সিংয়ের সঙ্গে বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, রাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে; প্রায় ছয় বছর আগে বালিয়াতে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ডিম ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে সেই মামলায় জামিনে মুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে এবং ঘটনা খতিয়ে দেখতে সাত সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ সিংয়ের পরিবার তাকে নির্দোষ দাবি করেছে। তার মা জামবন্ত্রী সিং, যিনি বালিয়া প্রধান ডাকঘরের কর্মী, দাবি করেছেন যে তার ছেলে লখনউতে এক বিজেপি নেতার মেয়ের বিয়েতে অংশ নিয়ে ফেরার পথে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সময় রাজ বালিয়াতেই উপস্থিত ছিলেন যার প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া যাবে। তবে অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার মতো উগ্রবাদী সংগঠনের নেতার এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় শিবিরের মধ্যেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সিবিআই হেফাজতে রাজ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের নাম বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





