অভিনব প্রতারণা থেকে রক্ষা পেলেন সিনিয়র সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ দাবি করে প্রতারণার চেষ্টা!

0

হাবিবুল্লাহ মিজান
দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি হেলাল উদ্দিন অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন এক অভিনব প্রতারণার হাত থেকে।
নিজেকে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি পরিচয় দিয়ে এক প্রতারক তাঁকে ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছিল।

বিখ্যাত ফ্রুটস ভ্যালি এগ্রো লিমিটেড  মালিক কৃষি উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন চাঁদপুরের শাহতলী এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর তীরে একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার জমিতে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক ফলবাগান। সেখানে তিনি বিশ্বখ্যাত ৫৭ জাতের বিদেশি আমসহ বিভিন্ন ধরনের ফলের চাষ করছেন।

সম্প্রতি তিনি চাঁদপুরে তাঁর কংক্রিট ব্লক কারখানা বিক্রি করা বা নতুন বিনিয়োগকারী নেওয়ার জন্য দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেন।

বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর সিনিয়র সাংবাদিক হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে বেশ কয়েকজন ক্রেতা ও বিনিয়োগকারী যোগাযোগ করেন।
৬ অক্টোবর দুপুরে এক ব্যক্তি ফোন করে জানতে চান, “কারখানাটি কেন বিক্রি করছেন?”

এরপর তিনি নিজেকে পরিচয় দেন— “আমি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি। আমি আপনার কারখানায় বিনিয়োগ করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “তিন-চার কোটি নয়, ১০ কোটি টাকাও দিতে পারব।”

প্রথমে অবাক হলেও হেলাল উদ্দিন আগ্রহ প্রকাশ করেন। কথিত রেজাউল করিম বাদশা দাবি করেন, তিনি বিভিন্ন হাউজিং ও গার্মেন্টস কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন।

প্রতারক শর্ত দেন— “আমি আপনার কারখানায় বিনিয়োগ করব, তবে কোম্পানির অংশীদার হব না।”

নিজেকে বিএনপির ‘ত্যাগী নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন,“গুলশানে আমার বাসা। প্রতিদিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা হয়। তারেক রহমানের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।”

তিনি আরও জানান, “খালেদা জিয়ার সাবেক পিএস ও এনটিভির মালিক মোসাদ্দেক আলী ফালু আমার ব্যবসায়িক পার্টনার। আগামীতে সরকার গঠন হলে আমি অনেক বড় বড় কাজ করব।”

প্রতারক রেজাউল করিম বাদশা হেলাল উদ্দিনকে সতর্ক করে বলেন,“এই চুক্তি সম্পূর্ণ গোপন রাখতে হবে। আমি হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলব না, ইমেইলে খসড়া পাঠাব। কাউকে কিছু জানালে বিনিয়োগ বাতিল হয়ে যাবে।”

তিনি আরও জানান, “আগামী সপ্তাহে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাক্ষাৎ হবে এবং ব্যাংক টু ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হবে।”

প্রতারক জানান, মোট ১০ কোটি টাকা ৫টি চেকে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রতিটি চেকের জন্য আলাদা করে ৫ লাখ টাকার চুক্তি করতে হবে।

অর্থাৎ প্রায় ২০০টি স্ট্যাম্প লাগবে—যার সব খরচ বহন করতে হবে হেলাল উদ্দিনকেই।

তিনি বলেন, “এই খুচরা খরচ এখন আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। আপনি আমার মুহুরীকে ৬০-৭০ হাজার টাকা দিন।”

এই কথাতেই সন্দেহ জাগে সিনিয়র সাংবাদিক হেলাল উদ্দিনের মনে।

ঘটনাক্রমে হেলাল উদ্দিনের যোগাযোগ হয় চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক-এর সঙ্গে।

হেলাল উদ্দিন তাঁর গুলশান অফিসে গিয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।

সব শুনে মানিক হতবাক হয়ে যান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ফোন দেন বগুড়া জেলা বিএনপির প্রকৃত সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে।
একই সময়ে হেলাল উদ্দিনও ফোন দেন প্রতারককে।

দুই দিকের ফোন একসঙ্গে চলতেই ধরা পড়ে প্রতারণার আসল চিত্র।

পরে বগুড়ার প্রকৃত জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন,

“আমার নামে প্রতারক চক্র আগেও এমন প্রতারণা করেছে। রাজনীতিক বা বিনিয়োগকারীর পরিচয়ে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।”

 

নিউজটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন