
হাবিবুল্লাহ মিজান
মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগ ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল মোঃ মোস্তফা কামাল খোশনবীসের নিয়োগে গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অবৈধ কমিটির মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ ওয়াজকুরনী, অডিট অফিসার চন্দন কুমার দেব এবং অডিটর মোঃ ওয়াহেদুল হকের টিম তদন্তটি করেন।
এ বছরের মার্চ মাসে তদন্ত টিম সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের সমস্ত শিক্ষক ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রতিষ্ঠানের দোকান ভাড়া, কাগজ বিক্রি ও অতিরিক্ত ক্লাসের সম্মানীর অর্থ থেকে প্রাপ্য ভ্যাট ও আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এ বাবদ প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা ফেরতযোগ্য বলে দাবি করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
তবে শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতি, চাঁদা আদায়, নৈশ প্রহরী লিটনের আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অতীতে বিশেষ কমিটি গঠন করে শতাধিক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা এখন বেআইনি হিসেবে বিবেচিত।
অর্থনৈতিক নৈরাজ্য প্রতিরোধে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। তদন্ত প্রতিবেদন আগামীকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হবে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এই বিষয়ে অডিট অফিসার চন্দন কুমার দেবকে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের শীর্ষ নেতা এবং মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক সাকির আহমেদ বলেন,
মোস্তফা কামাল খোশনবীসের বিরুদ্ধে আনা এক নম্বর অভিযোগ ডিআইএ তদন্ত, পর্যবেক্ষণ এবং মন্তব্য অনুযায়ী প্রমাণিত যে, তার নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ। যেহেতু গভর্নিং বডির সদস্য সচিব অবৈধ, শিক্ষক প্রতিনিধি মৃদুল চন্দ্র ও মিসেস আম্বিয়া অবৈধ, কলেজ শাখা ও প্রাথমিক শাখার অভিভাবক প্রতিনিধিরাও বিধি বহির্ভূত—সুতরাং নিয়োগ বোর্ড নৈতিক ও শিক্ষা বিধিমালার দৃষ্টিকোণে অবৈধ। অতএব প্রধান শিক্ষক এবং পরবর্তীতে প্রিন্সিপাল মোঃ মোস্তফা কামাল খোশনবীসও অবৈধ। তাছাড়াও সদস্য সচিবের ওপর কোর্টের নিষেধাজ্ঞা ছিল।
নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগের বিষয়ে অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল মোঃ মোস্তফা কামাল খোশনবীস বলেন,সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম আবদুস সালামকে অবৈধ ঘোষণা করে মন্ত্রণালয় বোর্ড এবং ডিজিকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেয়। পরবর্তীতে এ বি এম সালাম হাইকোর্টে রিট করলে মন্ত্রণালয়ের চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত হয়। পরে মন্ত্রণালয় কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে আগের চিঠির কার্যক্রম স্থগিত করে।
তিনি আরো বলেন,এরপর সরকার বাদী হয়ে এ বি এম আবদুস সালামের নিয়োগের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা করলে মামলায় এ বি এম আবদুস সালামের নিয়োগ বৈধ বলে বিবেচিত হয়। এখানে মন্ত্রণালয়ের স্থগিতের চিঠি এবং কোর্টের রায় বাদীপক্ষ উপস্থাপন করেনি। আমার কাছ থেকেও এ বি এম আবদুস সালামের কাগজ চাওয়া হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে স্কুলের কাগজ বিক্রির ৫১,৬০০ টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তক্রমে ২০১৯ সালের শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিলের অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়েছে।





