
বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো ভারতের একটি বিশেষ মেডিকেল দল সফল মিশন শেষে নিজ দেশে ফিরে গেছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় মেডিকেল টিমটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করে।
নয়াদিল্লির দুই শীর্ষ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল এবং সফদরজং হাসপাতাল থেকে আগত চার সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ দলটি ২৩ জুলাই ঢাকায় পৌঁছায় এবং পরবর্তী পাঁচ দিন ধরে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় সরাসরি অংশ নেয়।
এর আগে ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী ও স্টাফ আহত হয়। দুর্ঘটনার তীব্রতা ও হতাহতের সংখ্যা নজরে আসার পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে দ্রুত এই মেডিকেল বিশেষজ্ঞ দলটিকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
ঢাকায় অবস্থানকালীন সময়ে ভারতীয় টিমটি সরাসরি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট (NIBPS)-এ কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। তারা জটিল ও সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা কৌশল ও মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন, পাশাপাশি অস্ত্রোপচার, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং পুনর্বাসন পদ্ধতি বিষয়ে যৌথভাবে মতবিনিময় করেন।
ভারতীয় চিকিৎসকরা এনআইবিপিএস-এর চিকিৎসাসেবার প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অসাধারণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা একে অন্যের অভিজ্ঞতা ভাগ করে আরও কার্যকর সমাধান খুঁজতে সক্ষম হয়েছি।”
দলটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তরিক আতিথেয়তা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের প্রশংসা করে জানায়, ভারতের পক্ষ থেকে আহতদের জন্য উন্নত চিকিৎসা, বিশেষায়িত রেফারেল এবং পরবর্তী পুনর্বাসন সহায়তা অব্যাহত থাকবে। যে কোনো প্রয়োজনে ভারত আগামীতেও পাশে থাকবে—এমন বার্তাও উচ্চারিত হয়।
এই মেডিকেল সফর কেবল চিকিৎসা সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক সহানুভূতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এমন দুঃসময়ে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোই সত্যিকারের প্রতিবেশীত্বের প্রতিফলন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই সফর প্রমাণ করেছে, সীমান্ত পেরিয়ে থাকা হৃদয়ের বন্ধনই সবচেয়ে দৃঢ়। যখনই প্রয়োজন, ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের পাশে থাকবে—সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ ও আস্থার হাত ধরে।





