
হাবিবুল্লাহ মিজান
সম্পাদক ও প্রকাশক
অল ক্রাইমস.টিভি
ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসায় সহায়তা করতে বাংলাদেশ সফররত ভারতীয় বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিমের কার্যক্রম দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই টিমের মানবিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করছেন বাংলাদেশের নেটিজেনরা। তবে কিছু সমালোচনাও এসেছে।
বর্তমানে এই মেডিকেল টিম ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে কাজ করছেন। গতকাল শুক্রবার (২৫ শে জুলাই) তাঁরা ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় পরামর্শ করেন, আহতদের আরোগ্যের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং চিকিৎসা প্রোটোকল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ভারতীয় মেডিকেল টিমের একটি ছবিসম্বলিত পোস্ট মাত্র সাত ঘণ্টায় ৪,৮০০-এর বেশি লাইক, ৩৯৩ বার শেয়ার এবং অসংখ্য মন্তব্য কুড়িয়েছে। এর মধ্যে ২,৮০০ জন ‘লাইক’, ১,৭০০ জন ‘লাভ’ এবং ১৮১ জন ‘কেয়ার’ রিঅ্যাকশন দিয়েছেন।
ফেসবুক ব্যবহারকারী সেলিম খান মন্তব্য করেছেন, “আমাদের এমন বিপর্যয়ের সময় পাশে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতের সরকার ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণের প্রতি।”
মো. মতিউর রহমান লিখেছেন, “ধন্যবাদ জানাই আমাদের দেশের এমন বিপদে পাশে থেকে সেবা করার জন্য। আমরা বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে সব সময় সুসম্পর্ক চাই।”
মইন উদ্দিন ওরফে অপু প্রধান লিখেছেন, “ভারত সর্বদাই বাংলাদেশের বিপদে পাশে ছিল, যেমন ছিল স্বাধীনতার যুদ্ধে।”

আরেক ব্যবহারকারী ইঞ্জিনিয়ার জিল্লুর রহমান লিখেছেন, “বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমরা কৃতজ্ঞ।”
শাহরিয়ার হাসান জয় লেখেন, “ভারতের মেডিকেল টিম এবং ভারত সরকারকে এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থন ও দক্ষতা আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান।”
আইনজীবী আজিজুল হাকিম লিখেছেন, “বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই…”
কাশফিয়া আনাম লেখেন, “আমাদের বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী ভারতকে ধন্যবাদ। বরাবরের মতো বাংলাদেশের সকল ক্রাইসিস মোমেন্টে ভারতের পাশে থাকার মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাই।”
শিহাব আহমেদ শায়ান লেখেন, “এটি একটি চমৎকার উদাহরণ… চলুন একপাক্ষিক লাভের চিন্তা না করে একে অপরের জন্য কাজ করি এবং সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করি!”
দেওয়ান ইনতিশার ইনাম শৌনক মন্তব্য করেছেন, “আমাদের সত্যিকারের প্রতিবেশী। ধন্যবাদ।”
জামাল আহমেদ লিখেছেন, “বিপদ-আপদে পাশের বাড়ির লোক আগে আসে, তেমনি প্রতিবেশী রাষ্ট্র সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে—এ জন্য তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। ধীরে ধীরে দুই রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক হোক, এই কামনা করি।”
তবে কিছু সমালোচনাও এসেছে। ফেসবুক ব্যবহারকারী এম এ রহিম প্রশংসার পাশাপাশি সীমান্তে একজন বাংলাদেশির মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “বাচ্চাদেরকে চিকিৎসা দিতে আসার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, তবে একই দিনে বর্ডারে একজন নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে হত্যা করার তীব্র নিন্দা জানাই।”
ভারতীয় মেডিকেল টিমের এই উপস্থিতি ও সহযোগিতা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। এই উদ্যোগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কৃতজ্ঞতা ও সংহতির আবেগ দেখা যাচ্ছে, তা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।





