LATEST ARTICLES

আসলেই পুতিন কি পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করবেন?


অল ক্রাইমস টিভি ডেস্ক
রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিকে বিশেষ সতর্কাবস্থায় রাখার জন্য রুশ সামরিক বাহিনীকে আদেশ দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন।
আমি একটি স্বীকারোক্তি দিয়ে শুরু করবো। আমি বহুবার চিন্তা করেছি, “পুতিন এমন কাজ কোনদিনই করবেন না।” কিন্তু তারপর দেখা গেলো তিনি ঠিকই কাজটি করেছেন। “তিনি কোনদিন ক্রাইমিয়াকে রাশিয়ার সাথে যুক্ত করবেন না,” তিনি সেটা করলেন। “তিনি ডনবাসে যুদ্ধ শুরু করবেন না,” সেটাই তিনি করলেন। “ইউক্রেন দখল করতে পুরোদমে তিনি কোনদিনই হামলা চালাবেন না নিশ্চয়ই?” কিন্তু তিনি সেটাও করলেন। আমি এখন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, “কোনদিন করবেন না”- এমন কথা ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য প্রযোজ্য নয় এবং এর ফলে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন তৈরি হয়। আর সেটা হল- “তিনি কখনোই শুরুতে পারমাণবিক বোমার বোতামে চাপ দেবেন না,” তাই কি? এটি কোন তাত্ত্বিক প্রশ্ন নয়। ইউক্রেন প্রশ্নে নেটোর নেতাদের আগ্রাসী বক্তব্যের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাশিয়ার নেতা ইতিমধ্যেই তার দেশের পারমাণবিক শক্তিকে “বিশেষ সতর্কাবস্থায়” রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুতিন ঠিক কী বলে আসছেন – সেটি মন দিয়ে শুনুন। গত বৃহস্পতিবার যখন তিনি টেলিভিশনে বিশেষ সেনা অভিযানের ঘোষণা দেন, তিনি একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন। যার বাস্তব রূপ হল ইউক্রেন দখলে নিতে পুরোদমে হামলা। পুতিন বলেছিলেন, রাশিয়া ছাড়া একটি পৃথিবীর কি প্রয়োজন? “যে কেউই বাইরে থেকে হস্তক্ষেপের চিন্তা করুক না কেন, আর যদি হস্তক্ষেপ করেই ফেলে, তাহলে তাকে এমন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে, ইতিহাসে এর আগে কেউ কখনো এমন পরিণতির মুখোমুখি হয়নি।” নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং নোভোয়া গেজেটা পত্রিকার প্রধান সম্পাদক দিমিত্রি মুরাতভ বিশ্বাস করেন, “পুতিনের শব্দচয়নকে মনে হয়েছে পারমাণবিক যুদ্ধের সরাসরি হুমকি।” “টেলিভিশনে তার ভাষণে পুতিন ক্রেমলিনের প্রভু নয় বরং নিজেকে যেন পুরো গ্রহের প্রভু হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। খুব দামি গাড়ির মালিক যেমন গাড়ির চাবিটা আঙুলে চক্কর দিয়ে ঘুরিয়ে ভাব নিতে থাকেন, ঠিক তেমনি করেই পুতিন যেন পারমাণবিক বোমার বাটনটিই ঘুরাচ্ছিলেন। তিনি অনেকবারই বলেছেন, যদি রাশিয়াই না থাকে, তাহলে এই গ্রহের দরকার কি? তার কথা আমলে নেয়নি কেউই। কিন্তু এটা এমন এক হুমকি, যে তিনি যা চান, সেইভাবে যদি রাশিয়ার সাথে আচরণ করা না হয়, তাহলে তিনি সবকিছু নিশ্চিহ্ন করে দেবেন।” ২০১৮ সালে এক তথ্যচিত্রে প্রেসিডেন্ট পুতিন মন্তব্য করেছিলেন, “কেউ যদি রাশিয়াকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়, তার জবাব দেবার আইনি অধিকার আমাদের রয়েছে। হ্যাঁ, পৃথিবী এবং মানবজাতির জন্য সেটা হবে একটা মহা-বিপর্যয়। কিন্তু আমি রাশিয়ার একজন নাগরিক এবং রাষ্ট্রপ্রধান। রাশিয়া ছাড়া একটি পৃথিবীর কি প্রয়োজন আছে আমাদের?” এখন একটু যদি সামনের দিকে অগ্রসর হই, পুতিন পুরোদমে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছেন, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী তা কঠোরভাবে প্রতিরোধের চেষ্টা করছে, ক্রেমলিনকে অবাক করে দিয়ে রাশিয়ার অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে ফেলার মতো অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। “পুতিন খুবই কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন”, মনে করছেন মস্কো ভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ পাভেল ফেলজেনহাওয়ার। “তার সামনে তেমন কোন পথ খোলা নেই। পশ্চিমা বিশ্ব যদি রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ জব্দ করে ফেলে, সেক্ষেত্রে রাশিয়ার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পতন হবে। সেক্ষেত্রে রাশিয়ার জন্য একটি উপায় হতে পারে ইউরোপের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া। আর একটি বিকল্প হতে পারে ব্রিটেন এবং ডেনমার্কের মাঝামাঝি নর্থ সি’র কোন এক যায়গায় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে – তাতে কী ঘটে সেটা পর্যবেক্ষণ করা।” ভ্লাদিমির পুতিন যদি পারমাণবিক বোমাকে বিকল্প হিসেবে বেছে নেন, তার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে কেউ কি তাকে বুঝিয়ে ক্ষান্ত করার চেষ্টা করবে, থামানোর চেষ্টা করবে? “রাশিয়ার রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী কখনোই জনগণের পক্ষ নেয় না”, বলছিলেন দিমিত্রি মুরাতভ। “তারা সবসময় শাসকদের পক্ষে।” আর ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়াতে শাসকই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। রাশিয়া এমন একটি দেশ যেখানে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। সেখানে ক্রেমলিনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। “পুতিনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সেখানে কেউই প্রস্তুত নন”, বলছেন পাভেল ফেলজেনহাওয়ার। “আমরা এখন এক বিপজ্জনক অবস্থানে রয়েছি।” ইউক্রেন যুদ্ধ, ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ। ক্রেমলিনের নেতা যদি তার অভীষ্ট সামরিক লক্ষে পৌঁছাতে সফল হন, সেক্ষেত্রের সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ সন্দেহের মুখে পড়বে। তিনি ব্যর্থ হচ্ছেন যদি এরকম কোন উপলব্ধি তৈরি হয় এবং তিনি যদি মারাত্মক হতাহতের সম্মুখীন হন, সেক্ষেত্রে আশংকা হচ্ছে ক্রেমলিন মরিয়া কোন পদক্ষেপ নিয়ে ফেলবে কিনা। বিশেষ করে “কোনদিন করবেন না”, এমন কথা যদি ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য প্রযোজ্য না হয়। ( সুত্রঃ বিবিসি নিউজ, ২৮ শে ফেব্রুয়ারী,২০২২)

আগুনে স্বামী ও তিন সন্তান হারিয়ে, নিজে এখন লাইফ সাপোর্টে


অল ক্রাইমস টিভি ডেস্ক রান্নাঘরে মশার কয়েল জ্বালাতে যায় ১১ বছর বয়সী শিশু আরিফ হোসেন। দিয়াশলাই জ্বালাতেই মুহূর্তে পুরো ঘর আগুনে ছেয়ে যায়। আরিফকে বাঁচাতে ছুটে আসেন তার মা, বাবা ও ছোট ভাই। অগ্নিদগ্ধ হয়ে সেখানেই মারা যায় আরিফের ছোট ভাই জোবায়ের হোসেন (৭)। অগ্নিদগ্ধ আরিফ, তার বাবা মকবুল মিয়া (৪২) ও মা রেখা বেগমকে (৩৫) নেওয়া হয় রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ ফেব্রুয়ারি মারা যান মকবুল মিয়া। বাবার ও ছোট ভাইয়ের পথ ধরে গতকাল রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আরিফ হোসেন। রেখা বেগম ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর গর্ভের সন্তানটিও মারা গেছেন বলে জানান চিকিৎসকেরা। সব হারিয়ে নিঃস্ব, রিক্ত রেখা বেগম এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আজ সোমবার সকালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীয়তনগর এলাকায় গত মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী, পুলিশ এবং আশুগঞ্জ, সরাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের চারটি দলের প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে শিশু জুবায়েরের মৃত্যু হয়। অন্যদের আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পাঠানো হয় ঢাকায়। নিহত মকবুল হোসেন উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের সফর মিয়ার ছেলে। তিনি সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ছিলেন। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল ফায়ার সার্ভিস। তবে ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহের মাথায় এসে আশুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, গ্যাস থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত সদস্যদের আত্মীয়স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, বাড়িওয়ালাকে বারবার বলার পরও ত্রুটিপূর্ণ গ্যাসের সংযোগ মেরামত না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ অস্বীকার করে বাড়িওয়ালার ছেলেরা দাবি করেছেন, লাইনের গ্যাস নয়, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শরীফপুর গ্রামে গেলে মকবুল হোসেনের বৃদ্ধ মা খোরশেদা বেগম ও খালা সোফিয়া বেগমসহ স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা যায়। খোরশেদা বেগম বলেন, ‘বাড়িওয়ালার গাফিলতির কারণে আমার ছেলের পরিবার শেষ হয়ে গেছে। নাতি-নাতনি, ছেলেসহ চারজন চলে গেছে। ছেলের বউয়ের অবস্থাও ভালো না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’ পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে নবীনগর উপজেলার বিটঘর গ্রামের রেখা বেগমের সঙ্গে মকবুলের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর পর বড় ছেলে আরিফের জন্ম হয়। এরপর জোবায়েরের জন্ম হয়। রেখা বেগম সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর তাঁর গর্ভে থাকা সন্তানেরও মৃত্যু হয়েছে। মকবুলের ছোট ভাই রমজান মিয়া ও চাচা মমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার প্রায় আট দিন আগে বাসার গ্যাসের চুলার রাইজার ও সংযোগ দিয়ে গ্যাস লিক হচ্ছে বলে বাড়ির মালিককে জানান মকবুল। পুরো ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় তাঁরা গ্রামের বাড়ি শরীফপুরে চলে আসেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওই ভাড়া বাসায় যান মকবুল। তখনো গ্যাসের চুলায় সমস্যা ছিল। বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানানো হলে মালিকের ছেলে মাহফুজ গ্যাসের চুলা মেরামতের চেষ্টা করে। পরে দরজা-জানালা খুলে রেখে ফ্যান ছেড়ে দিলে গ্যাস বের হয়ে যাবে জানায় মাহফুজ। চুলার সমস্যার কারণে রান্নাবান্না বন্ধ রেখে হোটেল থেকে খাবার আনান রেখা বেগম। ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে মকবুল তাঁর ছেলেকে মশার কয়েল জ্বালাতে বলেন। রান্নাঘরে গিয়ে বড় ছেলে আরিফ দিয়াশলাই জ্বালাতেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মোমিনুল ইসলাম আরও বলেন, মকবুলের শরীরের ৬২ শতাংশ ও আরিফের শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। রেখার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে‌, তাঁর অবস্থাও ভালো নয়। আজ সোমবার সকালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁরা মামলা করবেন বলে জানান। ওই ভবনের প্রতিবেশী হোসনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। মনে হচ্ছিল বিল্ডিং বুঝি এখনই ভেঙে পড়বে। দরজা খুলতেই দেখি আগুন। রেখা ম্যাডাম তখন দরজার সামনেই ছিল। তাঁর মুখের একপাশে আগুন লেগেছিল। আগুন নিয়েই ছোট ছেলেকে উদ্ধার করতে ভেতরে যান তিনি।’ ওই ভবনের মালিক আলাই মোল্লাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁর দুই ছেলে আলম মোল্লা ও মাহফুজ মোল্লা  বলেন, গ্যাসের চুলায় কোনো সমস্যা ছিল না। তাঁরা প্রতি ১৫ দিন পর গ্যাসের লাইন পরীক্ষা করেন। ঘরের ভেতর গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা। আশুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান  বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। কিন্তু বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কম। ঘটনার পরদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গ্যাসের বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে। নিহত মকবুল ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা তাঁর স্ত্রীও গ্যাসের কথা বলেছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন। এই গ্যাস সিলিন্ডার নাকি লাইনের গ্যাস, তা নিশ্চিত নন। তবে ওই কক্ষে সিলিন্ডারের কোনো আলামত পাননি। ( সুত্রঃ প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ২৮,২০২২)
স্বামী মকবুল মিয়া, স্ত্রী রেখা বেগম, তাঁদের দুই সন্তান জোবায়ের হোসেন ও আরিফ হোসেন (বাম থেকে)। রেখা বেগম এখন লাইফ সাপোর্টে, বাকিরা মারা গেছেন

চিকিৎসক না হয়েও তিনি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ


কেরানীগঞ্জের আটিবাজারের রাফিয়া ক্লিনিকের মালিক মো. ওহেদুজ্জামান প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতারণা করেছেন। চিকিৎসক না হয়েও তিনি ‘মেডিসিন বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। রোগী প্রতি ৪০০ টাকা করে ভিজিটও নিতেন। যে সনদ দিয়ে তিনি চিকিৎসা পেশার রেজিস্ট্রেশন নিয়েছিলেন, সেটি ছিল ভুয়া। বুধবার (৭ জুলাই) তার সনদ নকল বলে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমঅ্যান্ডডিসি)। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করেছে সংস্থাটি। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের বাস্তা ইউনিয়নের বাঘাসুর গ্রামের কৃষক সাদেক আলীর ছেলে ওহেদুজ্জামান এইচএসসি পাস করার পর ঢাকায় চলে যান। কয়েক বছর পর গ্রামে ফিরে তিনি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দেন। বিএমঅ্যান্ডডিসিতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য তিনি ২০০৬ সালে আবেদন করেন। ‘দ্য সেইন্ট পিটারসবার্গ স্টেট মেডিকেল একাডেমির’ সনদ জমা দিয়ে তিনি একই বছরের ১৬ মে বিএমঅ্যান্ডডিসির রেজিস্ট্রেশন (এ-৪২৫৭২) নেন ওহেদুজ্জামান। এরপর কেরানীগঞ্জের আটিবাজারে ভবন ভাড়া নিয়ে রাফিয়া ক্লিনিক খুলে বসেন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি সেখানে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন এবং রোগীপ্রতি ৪০০ টাকা করে ভিজিট নেন। ১৫ বছর ধরে প্রতিদিন শত শত রোগী দেখে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা আয় করেছেন। মাত্র চার বছরের মধ্যে ভাড়া ভবন ছেড়ে কোটি টাকায় জমি কিনে বহুতল ভবন নির্মাণ করে নিজস্ব ভবনে রাফিয়া ক্লিনিক স্থানান্তর করেন। গত ৩০ জুন বিএমঅ্যান্ডডিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার প্রতারণার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বিএমঅ্যান্ডডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. আরমান হোসেনের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মোহাম্মদ ওহেদুজ্জামান রাশিয়ার ‘দ্য সেইন্ট পিটারসবার্গ স্টেট মেডিকেল একাডেমি’ থেকে ডাক্তারি পাসের সনদ দিয়ে বিএমঅ্যান্ডডিসির রেজিস্ট্রেশন নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি আসলে ভুয়া। এ বিষয়ে, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দেবনাথ বলেন, চিকিৎসার মতো একটি মহান পেশার নামে ওহেদুজ্জামান লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। শুধু তাই নয় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল বিত্ত, বৈভব। ইতোমধ্যে বিএমঅ্যান্ডডিসি তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমরাও তার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসী প্রতারণার বিষয়টি জানার পর থেকে ওহেদুজ্জামান গা ঢাকা দিয়েছেন। বুধবার রাফিয়া ক্লিনিকে গিয়ে ওহেদুজ্জামানকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। রাফিয়া ক্লিনিকের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক শামীম ভূইয়া বলেন, আমি চার মাস ধরে হাসপাতালে যোগদান করেছি। স্যারের সার্টিফিকেট বাতিল করার কথা শুনেছি। এ ঘটনার পর থেকে স্যার রোগী দেখছেন না। তবে যথাযথ ডকুমেন্টস পেশ করে বিএমঅ্যান্ডডিসির রেজিস্ট্রেশন ফিরে পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দেশে এবার নতুন মাদক ‘ম্যাজিক মাশরুম’


জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, খাট, এলএসডির পর নতুন আরেকটি মাদকের সন্ধান পাওয়া গেছে বাংলাদেশে। নতুন এ মাদক হলো ম্যাজিক মাশরুম। বিভিন্ন খাবারে কেক ও চকলেট মিশ্রিত অবস্থায় সেবন করা হয় এটি। এ মাদক সেবনের ফলে সেবনকারীর মধ্যে হ্যালোসিনেশন তৈরি হয়। রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে ম্যাজিক মাশরুম ও বিদেশি মদসহ দুই যুবককে গ্রেফতারের পর বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাব বলছে, পাউডার, ক্যাপসুল হিসেবেও পাওয়া যায় এ মাদক। এটি ব্যবহারের পর সেবনকারীর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এটি সেবনের পর ছাদ থেকে লাফিয়েও পড়তে পারেন কেউ। উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়া যুবকদের মধ্যে কয়েকজন দেশে এ মাদক নিয়ে আসছেন। কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে র‌্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১০ এর একটি বিশেষ দল হাতিরঝিল এলাকা থেকে দুই যুবককে গ্রেফতার করে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা হলেন- নাগিব হাসান অর্ণব (২৫) ও তাইফুর রশিদ জাহিদ (২৩)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় মাদক ম্যাজিক মাশরুমের ৫টি বার। প্রত্যেক বারে রয়েছে ২৪টা করে স্লাইড। প্রতিটি বারে ম্যাজিক মাশরুমের পরিমাণ ২৫০০ মিলিগ্রাম। কমান্ডার মঈন বলেন, নাগিব হাসান অর্ণব বাংলাদেশে এসএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। তাইফুর রশিদ জাহিদ তার সহপাঠী ছিলেন। অর্ণব ২০১৪ সালে লেখাপড়া করতে কানাডায় যান। লেখাপড়া শেষ করে সেখানেই কাজ শুরেু করেন তিনি। তাইফুর রশিদ জাহিদ গাঁজা ও মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে এলএসডি, ডিএমটিসহ বিভিন্ন ধরনের সাইকেডেলিক ড্রাগ নিয়মিত সেবন ও বিক্রি করা শুরু করেন তিনি। সাইকেডেলিক ড্রাগ সম্পর্কে তার আগ্রহ সৃষ্টি হলে ইন্টারনেটে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন তিনি। এরপর জাহিদ বাংলাদেশে জন্মানো বিভিন্ন মাশরুমের মধ্যে সাইকেডেলিক বা ম্যাজিক মাশরুম আছে কি না তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। ডার্ক সাইটে ম্যাজিক মাশরুমের খোঁজ পান তিনি। এরপর বিদেশে অবস্থানরত তার বন্ধু ও পরিচিতদের ম্যাজিক মাশরুম বাংলাদেশে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি। জাহিদের এমন একটি প্রস্তাবে রাজি হন কানাডায় অবস্থানরত অর্ণব। চলতি বছরের মে মাসে ম্যাজিক মাশরুমের বড় একটি চালান নিয়ে বাংলাদেশে আসেন অর্ণব। এ মাদককে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে কমান্ডার মঈন জানান, এটি সেবন করার পর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহিl অত্যন্ত বীভৎসভাবে নিজেই নিজের হাতের বিভিন্ন অংশ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলেন। তিনি আরও জানান, এই মাদক সেবনে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, থাকে আট থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত। কীভাবে এই মাদকের পেমেন্ট ও আমদানি হচ্ছে জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, প্রত্যেকটি বারে থাকে ২৪টি করে স্লাইড। একেকটি বার বাংলাদেশে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। বিট কয়েন ,পেপলসহ অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে এ মাদক বেচাকেনা হয়। কখনো কারবারি নিজেই চকলেটের আড়ালে এই ম্যাজিক মাশরুম দেশে আনছেন। আবার কখনো যাত্রীর লাগেজের মাধ্যমেও এই মাদক দেশে আমদানি করা হচ্ছে। নতুন এই মাদকের দাম দেশে বেশি, কিন্তু বিদেশে কম। এর আমদানিতে খরচও কম। আর এটি বিক্রি লাভজনক। এসব কারণে এ মাদকের ব্যবহার বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চলতি বছরের শুরুর দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের রহস্যজনক মৃত্যুর পর আলোচনায় আসে লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড (এলএসডি) নামে নতুন ধরনের এক মাদক। এলএসডি সেবনের কারণে স্বাভাবিক চিন্তা-চেতনা হারিয়ে হাফিজুর আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই এলএসডির ক্রেতা-বিক্রেতা। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত এক থেকে দেড় বছর আগে দেশি বিদেশি বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এলএসডির প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে তারা কৌতূহলবশত অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে এলএসডির সেবন প্রক্রিয়া ও কোথায় পাওয়া যায় সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে এলএসডি দেশে নিয়ে আসা ও সেবনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। পরে তারা বিদেশ থেকে এলএসডি দেশে নিয়ে এসে গ্রুপে আলোচনা করে কেনাবেচার বিষয়টি ঠিক করেন। এখন পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া ১৫টি গ্রুপের সদস্য নিজেরাই এলএসডির ক্রেতা ও বিক্রেতা। এসব গ্রুপের বাইরে এলএসডির বিক্রির তেমন কোনো তথ্য পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সেনাবাহিনী প্রধানের সাথে ভারতের হাই কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ


বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী আজ সোমবার  সেনাসদরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় হাই কমিশনারের সাথে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডিফেন্স এ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জাগদ্বীপ সিং চীমা। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানানো হয়। সাক্ষাতকালে তাঁরা পারস্পারিক কুশল বিনিময় করেন এবং কিছু সময় অতিবাহিত করেন। হাই কমিশনার দোরাইস্বামী সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় জেনারেল শফিউদ্দিনকে অভিনন্দন জানান। সেনাবাহিনী প্রধান তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য ভারতীয় হাই কমিশনারকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে জেনারেল শফিউদ্দিন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  

সফল হেলি র‍্যাপ্লিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেন সেনাবাহিনীর নারী সদস্যরা


হাবিবুল্লাহ মিজান প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যরা  র‍্যাপ্লিংয়ের  মাধ্যমে সম্পূর্ণ কম্ব্যাট লোডসহ হেলিকপ্টার হতে অবতরণ প্রশিক্ষণ সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রেজা-উল করিম শাম্মী কর্তক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আজ এটি জানানো হয়েছে। সম্প্রতি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারশেন ট্রেনিং (বিপসট) এ এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। আফ্রিকার যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনের পূর্ব-প্রস্তুতি হিসেবে ব্যানব্যাট-৮ এর ফিমেল এ্যাঙ্গেজমেন্ট টিম  (এফইটি) লিডার ক্যাপ্টেন ইয়াসফিনের নেতৃত্বে চার জন নারী সৈনিকসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মোট পাঁচ জন নারী সদস্য এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনপূর্ব ছয় সপ্তাহের ফিল্ড ট্রেনিং অনুশীলনে ফিমেল এ্যাঙ্গেজমেন্ট টিমের এই নারী সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এই কঠোর অনুশীলন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এবং নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করলো,যা আগামী দিনগুলোতে জাতিসংঘের মহিলা  শান্তিরক্ষীদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নারী সেনাসদস্যদের শান্তিরক্ষী হিসেবে প্রেরণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন এবং জেন্ডার মেইন স্ট্রিমিং এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে পদাতিক ব্যাটালিয়নে ফিমেল এ্যাঙ্গেজমেন্ট টিম অন্তর্ভূক্ত করতে শুরু করেছে,যা বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনকে আরও কার্যকর এবং ফলপ্রসূ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

জনগণ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে দূরত্ব থাকবে নাঃ নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন


হাবিবুল্লাহ মিজান নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আজ বৃহস্পতিবার বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দেশের মানুষের মধ্যে কোনও দূরত্ব থাকবে না। দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি আরো আশ্বাসও দিয়েছেন যে, মিডিয়া এবং সেনাবাহিনীর মধ্যেও কোন দূরত্ব থাকবে না। সেনা সদর দফতরে একটি অনুষ্ঠানে সেনা প্রধানের দায়িত্ব  নেওয়ার পর জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “প্রথমে আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি যে, সর্বশক্তিমান আল্লাহর আশীর্বাদ ব্যতীত এ অর্জন মোটেই সম্ভব না।” আমি আমার প্রতি আস্থা রাখার জন্য এবং আমাকে এত বড় দায়িত্ব দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, নতুন সেনা প্রধান বলেন। জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন বলেন, আপনারা সকলেই জানেন যে, আজ ২৪ শে জুন,২০২১। ২০২৪ সালের একটি বিশেষ তাত্পর্য রয়েছে। আমরা আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করছি। এই স্মরণীয় মুহুর্তে এই দায়িত্ব নিতে পেরে আমি সত্যিই খুবই গর্ববোধ করছি। সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাকে যেন আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের সামর্থ্য দান করেন। তিনি বলেছিলেন, “তবে এটি সত্য যে,সবার সহায়তা ব্যতীত এত বড় দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না।” জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন বলেছেন, আমাদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাসিক্যাল ভূমিকা খুব ভালভাবে পালন করতে হবে। সেনাবাহিনী সচরাচর সে সব দায়িত্ব পালন করে সেগুলো পালন করতে হবে। একাদশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যাতে লক্ষ্য অর্জন করতে পারে এই জন্য আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করি,তিনি আরো যোগ করেন। তিনি আরও বলেন, এই জন্য আমরা যা প্রয়োজন তাই করবো। তিনি আশ্বাস দেন যে সব বিষয়গুলোতে জনগনের আগ্রহ রয়েছে,তা জনগণকে জানানো হবে। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে কোনও দূরত্ব থাকবে না। তিনি আরো আশ্বাসও দেন যে মিডিয়া এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে কোনও দূরত্ব থাকবে না। তার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি আপনাদের এ সম্পর্কে অবহিত করব। আমি স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। সুতরাং সবকিছুই লক্ষ্য করা হবে। কোনও সমস্যা হবে না। আমি আমার কমান্ড ফিলোসপি দেব। আমি আমার কৌশলগত পরিকল্পনা করবো সেনাবাহিনীর জন্য। এটি সবাইকে জানাবো। তবে এটি আজ আমি আপনাদের তাত্ক্ষণিকভাবে দিতে পারি না এবং এটি ঠিক হবে না, তিনি আর্মি সদর দফতরে মিডিয়ায় তাঁর প্রথম বক্তব্য এভাবেই শেষ করেন। এর আগে নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তাঁকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরান নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এমএম ইমরুল কায়েস জানান, র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নব-নিযুক্ত সেনা প্রধানকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর সফলতা কামনা করেন। পরে নতুন সেনাপ্রধানও প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং দোয়া কামনা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লে. জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স-এর  মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।  

নড়াইলের করফা গ্রামের কৃতি সন্তান লেঃ জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন


হাবিবুল্লাহ মিজান নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের চর করফা (ভাঙ্গা) গ্রামের কৃতি সন্তান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এই খবরে নড়াইল জেলার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের জনগনের মাঝে খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁরা নতুন সেনাপ্রধান লেঃ জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার আরেক কৃতি সন্তান বাংলাদেশ পুলিশের কর্মরত ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম তাঁর ব্যাক্তিগত ফেসবুক একাউণ্টে লিখেন,“ নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার করফা(ভাঙ্গা) গ্রামের কৃতি সন্তান লেঃ জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।” তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন সিআইডির রংপুর এবং খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম,যিনি সারাদেশে মানবিক পুলিশ অফিসার হিসাবে পরিচিত। অপরাধ ভিত্তিক অনলাইন টেলিভিশন অল ক্রাইস টিভির সাথে আলাপকালে লোহাগড়া উপজেলার চেয়ারম্যান এস.এম.এ হান্নান রুনু বলেন, আমাদের উপজেলার একজন কৃতি সন্তান সেনা প্রধান হচ্ছেন শুনে আমরা খুবই খুশি। লোহাগড়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বিএম কামাল হোসেন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অপরাধ ভিত্তিক অনলাইন টেলিভিশন অল ক্রাইস টিভিকে বলেন,এটা আমাদের জন্য অনেক গর্বের এবং খুবই আনন্দের বিষয়। আমাদের লোহাগড়াসন্তান সন্তান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে,বিশেষ করে সেনা প্রধান হচ্ছেন, এই জন্য আমরা গর্ব বোধ করি,তিনি আরো যোগ করেন। অপরাধ ভিত্তিক অনলাইন টেলিভিশন অল ক্রাইস টিভির কাছে এক তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় লোহাগড়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন ইতি বলেন, আমি গর্ব বোধ করছি যে আমার লোহাগড়ার কৃতি সন্তান এতো বড় একটা দায়িত্বপ্রাপ্ত হতে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন,এটা আমাদের লোহাগড়া তথা নড়াইলের গর্ব,আমরা উনাকে নিয়ে গর্ব বোধ করছি। উল্লেখ্য,লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুন) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ওয়াহিদা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ওয়াহিদা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে আগামী ২৪ জুন (২০২১) বিকাল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর প্রধানদের (নিয়োগ, বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তিন বছরের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তখন তাকে অ্যাটর্ডক-এর জিওসি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ১৯৮৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর নবম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে পদাতিক কোরে কমিশন্ড লাভ করেন। এর আগে তিনি একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন, বিএমএতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার, একটি পদাতিক ব্রিগেড ও সেনাসদর প্রশিক্ষণ পরিদফতরের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০১২ সালে তিনি ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চাকরি জীবনে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর মহাপরিচালক এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সিনিয়র ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সেন্ট্রাল অফ্রিকান রিপাবলিক-এ ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

সেনাপ্রধানের কোন ফেসবুক আইডি নেই


নিজস্ব প্রতিবেদক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের ফেসবুকসহ কোন সোশ্যাল মিডিয়ায় আইডি নেই বলে আজ জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। তাঁর নামে ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (২৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় সেনা প্রধানের নাম এবং ছবি ব্যবহার করে সেনাবাহিনী প্রধানের নামে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকার স্ট্যাটাস প্রদান ও তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ সকল ভুয়া আইডি থেকে প্রকাশিত সকল তথ্যাবলী মিথ্যা হিসেবে গণ্য করতে সকলকে অনুরোধ করা হলো।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে সোসাইটি অফ ডক্টর্স অ্যান্ড স্টুডেন্টস অফ মানিকগঞ্জের বৃক্ষরোপণ


মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি মানিকগঞ্জে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ করেছে সোসাইটি অফ ডক্টর্স অ্যান্ড স্টুডেন্টস অফ মানিকগঞ্জ (এসডিএসএম)। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আক্তারুজ্জামান, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরশাদ উল্লাহ, বিএমএ মানিকগঞ্জ শাখার সাধারন সম্পাদক ডা. রাজীব বিশ্বাস, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুতফর রহমান, সোসাইটির অন্যতম উপদেষ্টা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মানবেন্দ্র সরকার, সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আশরাফুল কবির,মেডিকেল অফিসার ডা. আশিক এলাহী, ডা. সৌরভ হাসান প্রমুখ।
মানিকগঞ্জে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ করেছে সোসাইটি অফ ডক্টর্স অ্যান্ড স্টুডেন্টস অফ মানিকগঞ্জ (এসডিএসএম)
কর্মসূচি শেষে জেলা বিএমএর সাধারন সম্পাদক ডা. রাজিব বিশ্বাস এসডিএসএম কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজনের সাথে জড়িত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং সকলকে আরও বেশি করে নিজ নিজ এলাকাতে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান। সংগঠনের সাধারন সম্পাদক ডা. কাজী আব্দুল্লাহ বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আমাদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান থাকবে।
মানিকগঞ্জে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ করেছে সোসাইটি অফ ডক্টর্স অ্যান্ড স্টুডেন্টস অফ মানিকগঞ্জ (এসডিএসএম)
অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, এসডিএসএম এর যুগ্ম সাধারন সম্পাদক অভিজিত সরকার, কুদরত ই খোদা স্বপন, সংগাঠনিক সম্পাদক ওলী আহমেদ, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুনীতি  দাস, দেবলীণা বিশ্বাস, আতিকা আরশী, গালিব মাহমুদ, আতিকুর, মৃন্ময় মানবসহ আরও অনেকে।