যেভাবে ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যা করেছিল মডেল মৌটুসী (ভিডিওসহ)

সবশেষে প্রেমিক নির্ঝরকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন,আমাকে ব্যবহার করবে, সেক্স করবে, আর আমি সরে যাবো। এটাতো হতে পারে না। বিয়ের কথা বললে তোমার পরিবার অসুস্থ হয়ে যায় আর সেক্সের কথা বললে সব ঠিকঠাক

  • 50
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    50
    Shares

ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করেছিলেন মডেল সাবিরা হোসাইন মৌটুসী। রাজধানীর মিরপুরের বাসায় তার মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল।আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে একটি সুইসাইড নোট ও ভিডিও বার্তা দিয়ে গেছেন এ মডেল।

রাজধানীর মিরপুরে রূপনগরের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, নির্ঝর নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের জের ধরেই আত্মহননের পথ বেছে নেন সাবিরা। তাদের দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বিয়ের ব্যাপারে অসম্মতি ছিল নির্ঝরের পরিবারের। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে সাড়ে ৯ মিনিটের ভিডিও বার্তায় ঘোষণা দিয়ে আত্মহত্যা করেন সাবিরা।

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ছুরি হাতে বারবার পেটে ও গলায় চাপ দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কাজ না হওয়ায় ৯ মিনিটের ওই ভিডিওর শেষে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যর্থ, আপাতত। ওকে নেক্সট অ্যাটেমপ্ট নেব।’

ভিডিও বার্তা যুক্ত করে ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাবিরা লেখেন, ‘আমি তোমাকে দোষ দিচ্ছি না। এটা তোমার ছোট ভাইকে বলা। সে আমাকে যা ইচ্ছে বলেছে। আর বেস্ট পার্ট হল, সে আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। আর আমার প্রশ্ন হল, তোমার কি একটুও ফিল হয়নি?’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘আমাকে ব্যবহার করবে, সেক্স করবে, আর আমি সরে যাবো। এটাতো হতে পারে না। বিয়ের কথা বললে তোমার পরিবার অসুস্থ হয়ে যায় আর সেক্সের কথা বললে সব ঠিকঠাক।’

সবশেষে নির্ঝরকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য সে (নির্ঝর) দায়ী। যদি আমি মারা যাই, তাহলে এর দায় তার।’

সাবিরা হোসাইন মৌটুসী ছিলেন মডেল, আর নির্ঝর সিনহা রওনক পেশায় চিত্রগ্রাহক। পেশাগত কাজের সূত্রে দু’বছর আগে তাদের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে পাঁচ মাস আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা গড়ায় শারীরিক অন্তরঙ্গতায়। দুই পরিবার তাদের বিয়ের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নির্ঝর বিয়ে নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। অপমানিত ও সম্ভ্রমহানির শিকার হয়ে নির্ঝর ও তার ভাই প্রত্যয়ের প্ররোচনায় সাবিরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।

মডেল সাবিরার আত্মহত্যার ঘটনায় রাজধানীর রূপনগর থানায় দায়ের করা মামলায় এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন তার মা দিলশাদ কাদির সিমি। তিনি মেয়ের মাদকাসক্তি, বেপরোয়া জীবন-যাপন ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

এদিকে নির্ঝর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাবিরার সঙ্গে তার সম্পর্কের আদ্যোপাপ্ত স্বীকার করেছেন। তবে  আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। পরে আদালত তাকে এবং একই মামলায় গ্রেফতার তার ভাই প্রত্যয় সিনহাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সাবিরার মা দিলশাদ কাদির সিমি এজাহারে উল্লেখ করেন, সাবিরা ও-লেভেলে পড়ার সময় তার অবাধ্য হয়ে যান এবং সিগারেট ও ঘুমের ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের নেশায় আসক্ত হন। পরে সাবিরা গানবাংলা চ্যানেলে মডেল হিসেবে কাজ শুরুর পর মা তাকে ‘স্বাভাবিক জীবনে’ ফেরানোর চেষ্টা করেন। তার এসব কর্মকা- জানতে পেরে প্রবাসী বাবা মনির হোসেন তার খরচ দেওয়া বন্ধ করে দেন। সাবিরা কারও কথা না শুনে তিনি ইচ্ছামতো বেপরোয়া জীবন-যাপন করতেন। একপর্যায়ে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন তিনি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নির্ঝর দাবি করেন- বিয়েতে তার আপত্তি ছিল না। তবে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তিনি কিছুটা সময় চেয়েছিলেন। সেই সময় দিতে রাজি হননি সাবিরা।

মামলার অপর আসামি প্রত্যয়কে মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম জাকির হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


  • 50
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    50
    Shares
  •  
    50
    Shares
  • 50
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply