যেভাবে প্রতারক শাহেদকে হার মানিয়েছে মহা প্রতারক নাসিম ও তাঁর স্ত্রী

৩০০ কোটি টাকার মালিক,ছিল ৩ টি স্ত্রী,ব্যাবহার করতো ৩২ সিম কার্ড

রাজধানীর রূপনগর এলাকা থেকে কথিত নাসিম রিয়েল এস্টেটের মালিক ৫৫ মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মহা প্রতারক নাসিমকে বিদেশি অস্ত্র, জালনোট ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব
  • 224
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    224
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহা প্রতারক মোঃ ইমাম হোসেন নাসিমের নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় প্রতারণা,ভূমিদস্যুতা,মাদক ও জালটাকা ব্যাবসার অভিযোগে অর্ধশত মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে প্রতারণা সংক্রান্ত অসংখ্য জিডিও অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু আরেক মহা প্রতারক শাহেদের মতোই সবাইকে ফাঁকি দিয়ে তাঁর অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল পুরোদমে। নামে ও বেনামে ৩২ টি মোবাইল সিম কার্ড ব্যবহার করতো। একটার পর আরেকটি বিয়েও করতো এই মহা প্রতারক নাসিম। তাঁদের কেউ কেউ ছিল তাঁর নাতিন বয়সী।
প্রয়োজনে অস্ত্র প্রদর্শন ও ওয়াকিটকি দেখিয়ে নিজের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতো। গ্রেপ্তার এড়াতে আন্ডারগ্রাউন্ডে তার গোপন সুরঙ্গে অবস্থিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্বলিত দরজাযুক্ত গোপন অফিসে আত্নগোপন করতো। নাসিমের অনুপস্থিতিতে তার তৃতীয় স্ত্রী হালিমা আক্তার প্রতারণার ব্যবসা দেখাশোনা করতো। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে আটক হয়েছেন এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের জালে। এ সময় মহা প্রতারক মোঃ ইমাম হোসেন নাসিম (৬০) ও তার সহযোগী হালিমা  আক্তার সালমা (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়।রাজধানীর রূপনগর এলাকা থেকে নাসিম রিয়েল এস্টেটের মালিক ৫৫ মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি প্রতারক নাসিমকে বিদেশি অস্ত্র, জালনোট ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।

র্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক অল ক্রাইমস টিভির সাথে টেলিফোনে আলাপকালে এটি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন

বুধবার (৩০ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেল ৩টা ৩৫মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত র্যাব-৪ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে এক সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক জানান,র্যাব-৪ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ রকিবুল হাসান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আক্তারুজ্জমানের নেতৃত্বে রাজধানীর রুপনগর আবাসিক এলাকা নাসিমের বাসায় ও চিড়িয়াখানা রোডে নাসিম রিয়েল এস্টেটের অফিসে অভিযান পরিচালনা করে একটি ৭.৬৫ মি.মি. বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, তিন রাউন্ড গুলি, ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার জাল নোট, ১৪০০ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশি মদ, ৪টি ওয়াকিটকি সেট, ৬টি পাসপোর্ট, ৩৭ টি ব্যাংক চেক বই এবং ৩২টি মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, নাসিম ১৯৭৮ সাল হতে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ঠিকাদারির কাজ করে আসলেও মূলত ২০০২ সাল হতে অভিনবভাবে প্রতারণামূলক কৌশলের মাধ্যমে নিজেকে কথিত নাসিম রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিক পরিচয় প্রদান করে সাইনবোর্ড টানিয়ে ও ক্ষেত্রবিশেষে অস্ত্র প্রদর্শন পূর্বক ভয় ভীতি দেখিয়ে সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় অন্যের জমি, খাস জমি দখল করে আবাসিক শহর গড়ে দেওয়ার নামে প্রায় ৫ হাজার সাধারণ জনগণের সাথে বায়না করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং ২৫০ জনকে ভূয়া চুক্তিপত্র করে প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে।

এর পাশাপাশি সে ২০০৫ হতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে ভিন্ন ভিন্নভাবে মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে। শাহ আলী থানাধীন ২৫/২৯, চিড়িয়াখানা রোডে অবস্থিত নাসিম গ্রুপের অফিসে অভিযান পরিচালনার সময় তার মালিকানাধীন ১৬টি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো হলো – নাসিম রিয়েল এস্টেট লিঃ, নাসিম ডেভলপার লিঃ, নাসিম এগ্রো ফুড লিঃ, নাসিম বাজার, এস বি ফাউন্ডেশন, ডা. বেলায়েত হোসেন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নাসিম পার্সেল ও কুরিয়ার সার্ভিস, সাপ্তাহিক ইমারত অর্থ, নাসিম শিপ বিল্ডার্স, নাসিম ইঞ্জিনিয়ারিং ও কন্সাল্টেন্সি, নাসিম ট্রেডিং লিঃ, সাহানা আই হাসপাতাল, বাংলা নিউজ ১৬, নাসিম ড্রিংকিং ওয়াটার, নাসিম রিফাইন্ড সুগার ও নাসিম বেভারেজ।

র্যাব জানায়, বিভিন্ন সময়ে নামে-বেনামে ৩২টি সিমকার্ড ব্যবহার করে সে প্রতারণা করতো। প্রয়োজনে অস্ত্র প্রদর্শন ও ওয়াকিটকি দেখিয়ে নিজের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতো। গ্রেপ্তার এড়াতে আন্ডারগ্রাউন্ডে তার গোপন সুরঙ্গে অবস্থিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্বলিত দরজাযুক্ত গোপন অফিসে আত্নগোপন করতো। নাসিমের অনুপস্থিতিতে তার তৃতীয় স্ত্রী হালিমা আক্তার প্রতারণার ব্যবসা দেখাশোনা করতো।

নাসিম ও তার সহযোগী হালিমার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, ভূমিদস্যুতা, মাদক ও জালটাকা মামলার ৫৫টি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে প্রতারণা সংক্রান্ত অসংখ্য জিডি ও অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, ইমাম হোসেন নাসিমের গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার দৌলতখান থানাধীন মেদুয়া গ্রামে। তার বাবা ১৯৫০ সালের দিকে ঢাকায় চলে আসেন। নাসিম ১৯৬০ সালে ঢাকার বাড্ডায় জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৩টি বিয়ে এবং চার সন্তানের জনক। ১৯৯৬ সালে প্রথম বিয়ে, ২০০৪ সালে দ্বিতীয় বিয়ে এবং ২০১৩ সালে তৃতীয় বিয়ে করেন।


  • 224
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    224
    Shares
  •  
    224
    Shares
  • 224
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply