একশ টাকার জন্য ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডিএমপি নিউজঃ হাত খরচের জন্য ৫০ টাকা বেশি দাবি করাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মুগদায় ছোট ভাইয়ের ইটের আঘাতে খুন হয়েছেন বড় ভাই। হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছোট ভাই যদিও বলছেন তিনি হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেননি।

নিহতের নাম জীবন চন্দ্র ঘোষ (২৯)। তিনি উত্তর মুগদার বাসিন্দা নারায়ন ঘোষের জ্যেষ্ঠপুত্র।

অভিযুক্ত ছোট ভাইয়ের নাম রাজিব চন্দ্র ঘোষ (২৪)। তিনি বড় ভাই জীবন চন্দ্র ঘোষের সাথে উত্তর মুগদায় একটি রেস্টুরেন্ট চালাতেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাহিদুল ইসলাম ডিএমপি নিউজকে জানান, তদন্তের এক পর্যায়ে নিহতের ছোট ভাই রাজিব চন্দ্র ঘোষের অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তাকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

এরপর রাজিবকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করলে হত্যার সঙ্গে নিজের জড়িত হওয়ার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

এসআই রাহিদুল জানান, দুই ভাই মিলে দোকানটি চালাতেন। প্রতিদিন হাত খরচ হিসেবে জীবন চন্দ্র ঘোষ ছোট ভাই রাজিবকে ৫০ টাকা দিতেন। ঘটনার দিন ছোটভাই ৫০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা দাবি করায় দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে জীবন চন্দ্র দোকানের মেঝেতে পড়ে যান। এ সময় রাজিব দোকানের মধ্যে থাকা ইট দিয়ে জীবনের মাথায় কয়েকটা আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বড় ভাই জীবনের। এরপর দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যান রাজিব।

নিহত জীবনের সেলফোন বন্ধ পাওয়ায় তাকে খুঁজতে বিকল্প চাবি দিয়ে দোকান খুললে সেখানে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

সবুজবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ রাশেদ হাসান ডিএমপি নিউজকে জানান, ৭ মে উত্তর মুগদার জীবন ফুড ফ্যান্টাসি নামের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে জীবন চন্দ্র ঘোষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা বাদী হয়ে ওই দিনই মুগদা থানায় অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরো জানান, এটি একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা। আমরা ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ও অন্যান্য টেকনিক্যাল পদ্ধতি প্রয়োগ করে আসামী সনাক্ত করে আদালতে সোপর্দ করতে সক্ষম হয়েছি।

আসামীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply