এই মুহুর্তে পাওয়া..
Home / লাইফ-স্টাইল / হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন তদন্ত করতে হবে: অ্যামনেস্টি

হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন তদন্ত করতে হবে: অ্যামনেস্টি

অল ক্রাইমস টিভিঃ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে বাংলাদেশে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের পক্ষপাতহীন ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। কেবল সমস্যাকে এড়িয়ে চলার মধ্যে সমাধান নেই। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে হত্যাকাণ্ড গুলোর নিন্দা জানাতে হবে। ত্বরিত গতিতে, পূর্ণাঙ্গ, পক্ষপাতহীন ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

যারা এখনও হুমকিতে রয়েছেন তাদেরকে নিরাপত্তা দিতে হবে। গত দু’মাসে দুর্বৃত্তদের হাতে ১০টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এসব কথা বলেছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ৬ জুন তারা এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সহিংস গ্রুপগুলোর হাতে গত দু’মাসে কমপক্ষে ১০টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সুচিন্তিত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতেই সৃষ্টি হয়েছে দায়মুক্তির পরিবেশ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক চাম্পা প্যাটেল বলেন, যারা ইসলাম অবমাননা করে তাদেরকে অব্যাহতভাবে টার্গেট করার সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর নির্লজ্জ ঘোষণায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আত্মতুষ্টিতে নাড়া লাগা উচিত।

গত রোববার নাটোরের বনপাড়ায় একটি গ্রামে সুনীল গোমেজ (৬৫) এক খ্রিস্টানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ নিয়ে গত দু’মাসে বাংলাদেশে তিনি হলেন কমপক্ষে দশম হত্যাকাণ্ডের শিকার। রোববারের প্রার্থনা সভার পর একটি চার্চের কাছেই তার মুদি দোকানে তার ওপর হামলা হয়। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। তারা একটি ওয়েবসাইটে বলেছে, এটা তাদের সিরিজ অপারেশনের অংশ। এতে বাংলাদেশে তাদের হামলার অভিপ্রায় প্রকাশ পেয়েছে। এর একদিন আগে একই কায়দায় চট্টগ্রামে দুর্নীতি বিরোধী একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা আকতারকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, তিনি মনে কছেন, দুর্নীতি বিরোধী ওই কর্মকর্তা এর আগে যেসব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করেছিলেন তার সঙ্গে ঘাতকদের সম্পর্ক থাকতে পারে। এপ্রিল থেকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার, এলজিবিটি অধিকারকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর, একজন ডাক্তার, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের হত্যার রেকর্ড তালিকাভুক্ত করেছে। চাম্পা প্যাটেল বলেন, অসহনশীলতার বিপক্ষে বাংলাদেশ সরকার মাঝে মাঝেই আত্মরক্ষার উপায় খুঁজেছে। কিন্তু তাদের গৃহীত কর্মকাণ্ড ইঙ্গিত দেয় অন্যকিছু। হত্যাকাণ্ডের এই ধারা বন্ধ করতে তাদের শক্তি ব্যয় না করে, তারা নিরাপত্তা দেয়ার আহ্বান অগ্রাহ্য করছে। এমনকি ভিকটিমরা যে হুমকির মোকাবিলা করছে সে জন্য তাদেরকেই দায়ী করা হচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা ও তা অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে সরকারের এটা তার বিপরীরত অবস্থান। বর্তমান দায়মুক্তির পরিবেশে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষ হুমকির রিপোর্ট করেছেন। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষ বার বারই ব্যর্থ হচ্ছে। নিরাপত্তা দেয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তারা ধর্মনিরপেক্ষ ও এলজিবিটি অধিকারকর্মীদের বলেছেন, সহিংস গ্রুপগুলোকে প্ররোচণা দেয়া এড়িয়ে চলতে। কোন কোন ক্ষেত্রে হামলা ডেকে আনার জন্য তাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ১৪ই এপ্রিলে বাংলাদেশের একমাত্র এলজিবিটি বিষয়ক প্রকাশনা রূপবান-এর সম্পাদক জুলহাস মান্নাকে হত্যা করা হয। তারপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, অস্বাভাবিক যৌনতা বিষয়ক প্রচারণা আমাদের সমাজ অনুমোদন করে না। চাম্পা প্যাটেল বলেন, কোন মানুষকে তার যৌন সম্পর্ক অথবা ধর্মের ভিত্তিতে খাটো করে দেখা উচিত নয়।

ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের হত্যাকাণ্ডগুলোর বর্ণনা দেয়া হয়। এখানে তা তুলে ধরা হলো:

৭ এপ্রিল. ২০১৬: আইনের ছাত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়ক প্রচারক নাজিমুদ্দিন সামাদ (২৮)কে ঢাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আল কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত আনসার আল ইসলাম এর দায় স্বীকার করেছে।

২৩ এপ্রিল, ২০১৬: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে (৫৮) হত্যা করা হয়। এ হত্যার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট।

২৫ এপ্রিল, ২০১৬: এলজিবিটি অধিকারকর্মী ও ইউএসএইডের কর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু তন্ময় মজুমদারকে ঢাকার এপার্টমেন্টে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট।

৩০ এপ্রিল, ২০১৬: নিখিল জোয়ারদার নামে একজন দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা করে মোটর সাইকেলে করে আসা দুর্বত্তরা। তিনি একজন জিন্দু। এ হত্যার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট।

১৪ মে, ২০১৬: বান্দরবানে মুয়াং শু ইউ চাক (৭৫) নামে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট।

২০ মে, ২০১৬: মীর সানাউর রহমান (৫৫) নামে একজন ডাক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন লেকচারার সাইফুজ্জামানকে মারাত্মক আহত করা হয়।

২৫ মে, ২০১৬: গাইবান্ধায় নিজের দোকানের ভিতর হত্যা করা হয দেবেশ চন্দ্র প্রামাণিককে (৬৮)। তিনি একজন হিন্দু। এ হত্যার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট।

৫ জুন, ২০১৬: চট্টগ্রামে একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী মাহমুদা আকতারকে হত্যা করা হয় তার এপার্টমেন্টের বাইরে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার তদন্ত করছিলেন তার স্বামী। এর সঙ্গে এই হামলার সম্পর্ক আছে।

৬ জুন, ২০১৬: নাটোরের বনপাড়ায় নিজের মুদি দোকানের ভিতর কুপিয়ে হত্যা করা হয় সুনীল গোমেজকে (৬৫)। তিনি একজন খ্রিস্টান।

Print Friendly

উপদেষ্টা সম্পাদক : আরিফ নেওয়াজ ফরাজী বাদল

সম্পাদক : হাবিবুল্লাহ মিজান

মোবাইল : ০১৫৩৪৬০৪৪৭৬, ই-মেইল : mizandeshi@gmail.com