এই মুহুর্তে পাওয়া..
Home / শীর্ষ অপরাধ / শিশু ধর্ষণের মামলা তুলে না নেওয়ায় বাবাকে হত্যা!

শিশু ধর্ষণের মামলা তুলে না নেওয়ায় বাবাকে হত্যা!

অল ক্রাইমস টিভিঃ শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল ঠিক দুই বছর আগে। সে মামলা এখনো চলছে। এবার সেই অভিযুক্ত ধর্ষণকারীই শিশুটির বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বরগুনার আমতলী উপজেলার পূর্ব চিলা গ্রামে গত মঙ্গলবার রাতে এই খুনের ঘটনা ঘটে। হত্যার ঘটনায় ধর্ষণ মামলার আসামি সুমন হাওলাদারকে (২৫) প্রধান আসামি করে আমতলী থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত ব্যক্তির স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব চিলা গ্রামের বাসিন্দা শিশুটির মা প্রতিবেশী সুমন হাওলাদারকে আসামি করে মেয়েকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৮ মে বরগুনার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলাটি ওই ট্রাইব্যুনালে এখন বিচারাধীন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১০ মে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন সুমন হাওলাদার। প্রসঙ্গত, শিশুটির বাবা একজন দিনমজুর।
নিহত ব্যক্তির স্ত্রী জানান, মামলা দায়েরের পর সুমন সাত মাস বরগুনা কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। তিনি অভিযোগ করেন,
কারাগার থেকে বের হয়ে সুমন ও তাঁর লোকজন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁর স্বামীকে হুমকি দিতে থাকেন। কিন্তু তিনি মামলা তুলে নিতে রাজি হননি। এরপর জীবননাশের হুমকি দেওয়া হলে তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ঢাকায় যান। তিন দিন আগে তিনি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। এলাকায় পেয়ে সুমন ও তাঁর সহযোগীরা আবার তাঁকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হন সুমন।
নিহত ব্যক্তির পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা স্থানীয় পূজাখোলা এলাকায় একটি খাল খননের কাজ দেখতে যান। সেখানে খননকাজ নিয়ে সুমনের বড় ভাই মনির হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিশুটির বাবার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করেন সুমন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তেংমং তাঁকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু বরিশাল নেওয়ার পথেই লেবুখালী ফেরিঘাট এলাকায় রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী বাদী হয়ে আমতলী থানায় সুমন হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতেই রব্বানী ও ইলিয়াস নামের দুজনকে আটক করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহত ব্যক্তির স্ত্রী অভিযোগ করেন, মেয়ের ধর্ষণের মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়াতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলক চন্দ্র রায় জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Print Friendly

উপদেষ্টা সম্পাদক : আরিফ নেওয়াজ ফরাজী বাদল

সম্পাদক : হাবিবুল্লাহ মিজান

মোবাইল : ০১৫৩৪৬০৪৪৭৬, ই-মেইল : mizandeshi@gmail.com