এই মুহুর্তে পাওয়া..
Home / জাতীয় / মুসলিম মাদ্রাসার শিশুদের জন্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর ঈদ উপহার

মুসলিম মাদ্রাসার শিশুদের জন্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর ঈদ উপহার

মুসলিম মাদ্রাসার শিশুদের জন্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর ঈদ উপহার

হেনা আক্তার,সম্পাদক,পজিটিভ নিউজঃ
বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার অন্তর্গত সাটুরিয়া ইউনিয়নের বাছট-বৈলতলা গ্রামে ২০০৮ সালে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক একে এম ফজলুল হকের প্রতিষ্ঠিত বাছট বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ১৪ জন শিশুর ঈদ উপহার কেনার জন্য ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে টাকা পাঠিয়েছেন সেখানে বসাবসরত এক বাংলাদেশী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পরিবার।

স্ত্রীর সাথে কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া

স্ত্রীর সাথে কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া

ইঞ্জিনিয়ার কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া নামের এক বাংলাদেশীর পরিবার বিশেষত ইসলাম ধর্মাবলম্বী শিশুদের পবিত্র কোরআন মুকস্থ করার এই হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং এতিম খানার প্রতিষ্ঠাতার পুত্র হাবিবুল্লাহ মিজানের কাছে আজ সকালে ১৪ জন ছাত্রকে নতুন জুতো কেনার জন্য আন্তর্জাতিক রিয়া মানি ট্রান্সফার সিস্টেমের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এই মহান মনের মানুষটির পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে,ইঞ্জিনিয়ার কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া ফ্রান্সের প্যারিসে একটি দোকানের মালিক।
কল্যাণ মিত্রের স্ত্রী এবং শিশু কন্যারা তাঁদের স্কুলের টিফিনের টাকা বাচিয়ে বাসায় অনেকদিন ধরে গচ্ছিত রেখেছিলেন।

ফেসবুকে একটা লেখার সূত্র ধরে তাঁর বাবার কাছে থেকে জেনে তাঁরা আবগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাঁর বাবাকে মানিকগঞ্জের এই ছোট মাদ্রাসার গরিব শিশুদের জন্য ঈদ উপহার কেনার টাকা পাঁঠাতে তাগিদ দেয়।

পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ার কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া ফোনে যোগাযোগ করেন মাদ্রাসার ১৪ জন গরীব শিশুদের জন্য ঈদ উপলক্ষে নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবি সাহায্য চেয়ে ফেসবুকে পোস্টদানকারী হাবিবুল্লাহ মিজানের সাথে।
তাঁদের দুই জনের আলাপের ভিত্তিতে বাংলাদেশে পাঁচ হাজার টাকা পাঠানো হয় আজ দুপুরে।
যদিও এই টাকা এখনো উত্তোলন করা হয়নি, কিন্তু টাকা দাবী করার গোপন কোড নাম্বার পাওয়া গিয়েছে বিধায় বাংলাদেশের যে কোন ব্যাংকে এই কোডটি বললেই যে কোন সময় টাকা উত্তোলন করা যাবে বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য মাদ্রাসার শিশুদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ নাজমুল আলম একাই ১৭ হাজার টাকা দেবেন বলে হাবিবুল্লাহ মিজানকে ফেসবুকে এক বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন। তাই,ইঞ্জিনিয়ার কল্যাণ মিত্র বড়ুয়ার টাকা দিয়ে শিশুদের জন্য নতুন জুতো কেনার পরিকল্পনা করেছেন বাছট বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদরাসার মোহতামিম হাফেজ মাওলানা জয়নাল আবেদিন।

বাছট বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা এবং এলাকাবাসীরা সৎ,দেশপ্রেমিক এবং দানবীর পুলিশ অফিসার হিসাবে খ্যাতি পাওয়া উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ নাজমুল আলম এবং প্রবাসী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ইঞ্জিনিয়ার কল্যাণ মিত্র বড়ুইয়ার প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তারা সবাইকে ছোট এই মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থের অভাবে বর্তামানে মাদ্রাসার শিশুদের জন্য একটি মসজিদের নির্মাণ কাজ এবং মাদ্রাসার টিনের ঘরের জরুরী মেরামত বন্ধ রয়েছে।
সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলেই টিনের ঘরে পানি এসে পবিত্র কোরআন সহ আমাদের ক্ষেতা বালিশ ভিজে একাকার হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন বাছট বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সদ্য হাফেজ হওয়া আবু রায়হান। এদিকে মাদ্রাসার মোহতামিম হাফেজ মাওলানা জয়নাল আবেদিন বলেন, আমাদের মাদরাসার সঙ্গে অন্যান্য হাফেজিয়া মাদ্রাসার কিছু পার্থক্য আছে। আমরা পবিত্র কোরআন মুখস্থ করানোর সঙ্গে সব শিশুদের বাংলা, ইংরেজি এবং বিজ্ঞান শিক্ষা দিচ্ছি।
চলমান আর্থিক দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এখানকার সব ছাত্রই মাদরাসার আশে-পাশের গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে থেকে প্রতিদিন খাবার নিয়ে এসে খায়। যদি কেউ ত্রিশ-চল্লিশ জন শিশুর তিন বেলা খাওয়ার জন্য একটি ‘লিল্লা বোর্ডিং’ বানিয়ে খাওয়ানোর খরচ বহন করতেন, তাহলে খুব উপকার হতো।

(নিচে ফেসবুকে সেই আলোচিত পোস্টই অবিকলভাবে তুলে ধরে হলো)

কেউ কেউ আমাকে ‘সাংবাদিক জঙ্গি’ বলবে,কেউ আবার বলবে ‘শালা সাংবাদিক ভিতরে ভিতরে পাক্কা জামাত-শিবির’। তারপরেও লিখছি………
কেউ নিজে দান না করতে পারলেও, পোস্টটি শেয়ার দিয়েন, যাতে অন্য কেউ পোস্টটি দেখে দান করতে পারেন,প্লিজ
বিকেল ৪ টা ১২ মিনিট। আমাদের নিজ জেলা মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার অন্তর্গত সাটুরিয়া ইউনিয়নের বাছট-বৈলতলা গ্রামে ২০০৮ সালে আমার আব্বা প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক একে এম ফজলুল হকের প্রতিষ্ঠিত ‘বাছট বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম হাফেজ মাওলানা জয়নাল আবেদিন সাহেব আমাকে ফোন দিলেন। আমি উনাকে কথা দিয়েছিলাম যে, ঈদ উপলক্ষে ১৪ শিশু ছাত্র এবং তাঁর জন্য পাঞ্জাবি এবং পায়জামা উপহার যোগাড় করে দিবো,ভিক্ষা করে হলেও।
তিনি জানালেন যে, কাওয়ালীপাড়া বাজার থেকে দর্জি এসে ১৪ জন ছাত্র এবং উনার জন্য একটি করে জামা এবং একটি পায়জামা বানানোর জন্য মাফ নিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন যে ১৫ সেট পাঞ্জাবি এবং পায়জামার জন্য মোট ৫১ গজ কাপড় লাগবে। পোশাক বানানোর মজুরী লাগবে প্রায় প্রতিজনে আরও ৪০০ টাকা। মোট প্রায় ১৬,০০০ – ১৭,০০০/- টাকার বিষয়। আমি প্রায় ৩৮,০০০ টাকা বেতন পাচ্ছি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করে। ঢাকা শহরে ভাড়া ফ্লাটে থেকে আমার বউ এবং দুই বছর বয়সি ছেলের খরচ মেটাতেই প্রায়শই আব্বার কাছে থেকে এখনো টাকা আনতে হয় আমাকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমার আর্থিক সামর্থ্য নেই ১৭,০০০/- টাকা দিয়ে ১৪ জন শিশু ছাত্র এবং তাঁদের শিক্ষকদের পায়জামা-পাঞ্জাবি উপহার দেয়া। তাই ফেসবুকে লিখছি। কারন এর আগে ফেসবুকে লিখেই মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য ১৫ টি শীতের কম্বল, ১৫ টি তোষক, এমনকি ক্রিকেট খেলার সামগ্রীও পেয়েছিলাম।

বাছট বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা

বাছট বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা

আজ থেকে পবিত্র রোজা শুরু হলো। হরেক রকমের ইফতার আইটেম খাবেন অনেকেই। অনেকে পরিবার,এমনকি বন্ধু-বান্ধবীকে নিয়েও গভীর রাতে নামীদামী হোটলে সেহেরী খেয়েই হাজার হাজার টাকা বিল দিবেন।
কেউ কি নেই কিছু টাকা বাচিয়ে বাছট বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মাত্র ১৪ জন শিশু ছাত্র এবং একজন শিক্ষকের জন্য পবিত্র ঈদ উপলক্ষে এক সেট করে পাঞ্জাবী এবং পায়জামা উপহার দিবেন???? দান করে কেউ ঠকেনি।
কারন মহান আল্লাহ হাশরের ময়দানে কোন এক বান্দাকে উদ্দেশ্য করে বলবেন, “আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম- তোমরা আমাকে খাবার দাওনি, আমি পিপাসার্ত ছিলাম- তোমরা আমাকে পানি পান করাওনি, আমি বস্ত্রহীন ছিলাম- তোমরা আমাকে বস্ত্র দাওনি, আমি অসুস্থ ছিলাম- তোমরা আমাকে সেবা করনি।”
এ কথা শুনে বান্দা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করবে, “হে প্রভূ! তুমি অভাবমুক্ত। কেমন করে তুমি ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত এবং পীড়িত হতে পার?”
উত্তরে আল্লাহ বলবেন, “আমার অমুক বান্দা ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত হয়ে তোমার দুয়ারে উপস্থিত হয়েছিল, তুমি তাকে খাদ্য ও পানীয় দাওনি। যদি দিতে সেখানে তুমি আমাকে পেতে। তোমার জানা উচিত ছিল, আমার বান্দার সেবা করলে আমারই সেবা করা হয় এবং আমি তাতেই সন্তুষ্ট হই”
(মুসলিম, ইমাম, আস-সহীহ, অধ্যায়: আল-বিররু ওয়াস-সিলাহ ওয়াল আদাব, অনুচ্ছেদ: ফাযলি ইয়াদাত আল-মারিদ)
রসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উদার ও দানশীল ছিলেন। রমজানে যখন হযরত জিবরাইল (আ.) তার কাছে নিয়মিত আসতেন এবং কোরআন পড়ে শোনাতেন, তখন তার দানশীলতা আরও বেড়ে যেত। আনাস (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.)-এর চেয়ে বেশি দানশীল আমি আর কাউকে দেখিনি’ (মুসলিম)।
দানশীলতা একটি মহৎ গুণ। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম।’ আর মাহে রমজানে দানের ফজিলত অনেক বেশি। এ জন্য অন্য ১১ মাসের তুলনায় এ মাসে অধিক দান-সদকা করা উচিত
‘বাছট বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিশুদের সাথে হাবিবুল্লাহ মিজান

‘বাছট বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিশুদের সাথে হাবিবুল্লাহ মিজান

রসুল (সা.) তার উম্মতদের শিক্ষা দিয়েছেন, রমজান মাসে দান ও বদান্যতার হাত সম্প্রসারিত করতে। হাদিসে রমজান মাসকে হামদর্দি বা ‘সহানুভূতির মাস’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
রমজানের রোজা ফরজ করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- গরিব-দুঃখী মানুষের কষ্ট অনুভব করা। যারা প্রাচুর্যের মাঝে জীবনযাপন করেন তারা সারাবছর ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা না বুঝলেও রমজানে কিছুটা বোঝেন। এই বোঝা তখনই সার্থক হবে যখন তারা গরিব-অসহায়দের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।
রমজান মাসে মহান খোদাতায়ালা প্রতিটি নফল কাজের সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেন। সে হিসাবে রমজানে এক টাকা দান করে ৭০ টাকা দানের সওয়াব লাভ করা সম্ভব।
এ জন্য প্রত্যেক রোজাদারের উচিত নিজের সাধ্য অনুযাযী অনাথ, আর্ত, সহায়-সম্বলহীন ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দানের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
(কেউ আমাকে নগদ একটি টাকাও সাধবেন না, প্লিজ,প্লিজ,প্লিজ। কারন অন্য মানুষের দানের টাকা আমি নিজের হাত দিয়ে জীবনে এখনো ছুয়নি। কারন আমিও দানের টাকা যে খেয়ানত করবো না,তার গ্যারান্টি কোথায়?)
মোতোওয়াল্লি এবং এলাকাবাসীর পক্ষে,
হাবিবুল্লাহ মিজান
সাবেক ছাত্র, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।
স্টাফ রিপোর্টার( ক্রাইম), দ্য ইনডিপেনডেন্ট, বেক্সিমকো মিডিয়া কমপ্লেক্স, ১৪৯-১৫০, তেজগাও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮।
ফোনঃ ৮৮৭৯০৯০, ফ্যাক্সঃ ৮৮৭৯০৮৮,মোবাইলঃ ০৭১৭৩১৭১৩৮৫

Print Friendly

উপদেষ্টা সম্পাদক : আরিফ নেওয়াজ ফরাজী বাদল

সম্পাদক : হাবিবুল্লাহ মিজান

মোবাইল : ০১৫৩৪৬০৪৪৭৬, ই-মেইল : mizandeshi@gmail.com