Home / শীর্ষ অপরাধ / মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার আড়ালে স্বর্ণ চোরাচালান

মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার আড়ালে স্বর্ণ চোরাচালান

DB gold
হাবিবুল্লাহ মিজান, অল ক্রাইমস টিভিঃ রাজধানীর একটি শক্তিশালী মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী চক্র সম্প্রতি দেশে আটককৃত ৫০ কোটি টাকার স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। পল্টন, বিমান বন্দরসহ কয়েক জায়গায় আটক স্বর্ণের উৎসের সন্ধান করতে গিয়ে এ চক্রের খোঁজ পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটককৃত স্বর্ণ চোরাচালানের ধারাবাহিক হিসেব মিলালে এর মূল্য দাঁড়ায় ৫০ কোটি টাকারও অধিক। এসব চোরাচালান চক্রের সঙ্গে কয়েকজন মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, পল্টনে উদ্ধারকৃত ৮০টি স্বর্ণের বারের মূল্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। চোরাচালানের অভিযোগে আটককৃত শামসুদ্দিন (৫১) ও কামরুল (৪০) উভয়ে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী। এছাড়াও এরা স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের বড় এজেন্ট বলে দাবি করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে পল্টনে স্বর্ণ উদ্ধারের তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম। এছাড়া আগের স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে চক্রটির জড়িত থাকার প্রমাণ।

মনিরুল ইসলাম আরো জানান, গত ২ জুন ৭০টি স্বর্ণের বার ও ৩৫ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রাসহ আটক নজরুল ইসলাম লিটনের (৪৬) বিরুদ্ধে মামলা পরবর্তী চার দিনের রিমান্ডে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্টন থেকে শামসুদ্দিন ও কামরুলকে আটক করা হয়।

শামসুদ্দিনকে পল্টন থানাধীন ফকিরাপুল ১২৯ নম্বর ডিআইটি এক্সটেনশন রোডের বাসা থেকে আটক করা হয়। পল্টনস্থ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম “আমিন মানি এক্সচেঞ্জ”। আর কামরুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম “সিটি মানি এক্সচেঞ্জ”। প্রতিষ্ঠানটি পুরানা পল্টনের ৪৮/এবি নম্বরে অবস্থিত।

ডিবি সূত্র জানায়, এরা মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার আড়ালে স্বর্ণ চোরাচালানের অর্থ যোগানসহ স্বর্ণ চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শামসুদ্দিন জানান, তিনি স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে তার নিজের বাসা থেকে রাতে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত শামসুদ্দিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ তার বাসার বেডরুমের বাথরুমের লকার থেকে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে। যার আনুমানিক ওজন ৯ কেজি ৩০০ গ্রাম। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বাজার মূল্য আনুমানিক সাড়ে চার কেটি টাকা হবে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এদিকে, গত ২৭ এপ্রিল হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পাচারকালে ১০৫ কেজি স্বর্ণ ধরা পড়ে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে উদ্ধার হওয়ার স্বর্ণের মালিক ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত করতে মাঠে নেমে একটি চক্রকে সনাক্ত করে ডিবি পুলিশ। চক্রের দলনেতা নজরুল ইসলাম লিটন (৪৬) দুবাই ও সিঙ্গাপুর থেকে স্বর্ণ কিনে তা বাংলাদেশে তার স্থানীয় সহযোগিদের মাধ্যমে পাচার করে আসছে বলে জানতে পারে তদন্তকারী গোয়েন্দারা। বাংলাদেশে নজরুলের সহযোগিদের আটক করতে গোয়েন্দারা জাল ফেলে। একপর্যায়ে নজরুলের ৯ সহযোগী ইকরামুল হক পারভেজ (৫১), মিজানুর রহমান রিপন (৩২), আবুল হোসেন সুমন (৩৩), অসীম কুমার সিংহ (৩৭), আবদুল কাদের (৩৩), আনিসুর রহমান (৩৪), বাবুল পোদ্দার (৫৪), আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (৪১) এবং জাহিদুর রহমান (৩৫) কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ইমিগ্রেশনের ২নং বোর্ডিং ব্রিজ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক করা হয়। পরে তাদের গত ২৮ এপ্রিল ১০৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। আটককৃত স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ছিল ৪৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে, তারা গত কয়েক বছর ধরে এ ব্যবসা করছে। তাদের দলনেতা নজরুল ইসলাম লিটন দুবাই ও সিঙ্গাপুর থেকে সপ্তাহে গড়ে দু’টি করে স্বর্ণের চালান পাঠাতো। এসব স্বর্ণ একরামুল হক পারভেজের মাধ্যমে বিমান বন্দরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পাচার হতো। পাচারের মূল বাজার ছিলো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার বলেন, বাংলাদেশে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে যে কয়েকটি চক্র জড়িত রয়েছে তার মধ্যে নজরুল ইসলামের চক্রটি অন্যতম। এছাড়া আরো কিছু চক্রের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ। এসব চক্রকে গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

১০৫ কেজি স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় আটককৃত ১০ চোরাকারবারির প্রত্যেককে চার দিন করে রিমান্ড দিয়েছিলেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম এমদাদুল হক গত সোমবার (২ মে‘১৪) এ আদেশ দেন।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডিবির (উত্তর) সহকারী পুলিশ সুপার এসএম নাজমুল হক আটকদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Print Friendly

উপদেষ্টা সম্পাদক : আরিফ নেওয়াজ ফরাজী বাদল

সম্পাদক : হাবিবুল্লাহ মিজান

মোবাইল : ০১৫৩৪৬০৪৪৭৬, ই-মেইল : mizandeshi@gmail.com