Home / জেলার অপরাধ / রংপুর বিভাগ / পুকুরে ডুবে চার শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু

পুকুরে ডুবে চার শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু

অল ক্রাইমস টিভিঃ রংপুরের বদরগঞ্জে একই দিনে পৃথক দুটি ঘটনায় পুকুরে ডুবে চার শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের কাঁচারীপাড়া ও কুতুবপুর ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক দুটি ঘটনা ঘটে।
পৃথক দুটি ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
নিহত ওই চার শিশু হলো কুতুবপুর সোনাপাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার মেয়ে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী লিপি (৬), একই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র লিমন (৮), পৌরসভার বটপাড়া গ্রামের জগেন্দ্রনাথ রায়ের মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মিনাক্ষী রায় (৮) ও গোপীনাথপুর কাঁচারিপাড়া গ্রামের দীনবন্ধু রায়ের মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী কোকিলা রায় (৮)।
পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লিপি ঈদের পর নানা মোক্তার হোসেনের বাড়িতে গত বুধবার বেড়াতে যায়। গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর থেকে লিপি ও তার মামাতো ভাই লিমন নিখোঁজ হয়। ওই দিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তাদের খোঁজে এলাকায় মাইকিং করা হয়। আজ শনিবার সকাল সাতটার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে উভয়ের লাশ ভেসে ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রামের হাজারো মানুষ শিশু দুটিকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় জমায়। এ সময় প্রাণহীন তরতাজা দুই শিশুকে দেখে কেউই চোখের পানি সংবরণ করতে পারেননি। সকাল ১০টার দিকে জানাজা শেষে শিশু দুটিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
অপরদিকে মিনাক্ষী রায় গত মঙ্গলবার মামা দীনবন্ধু রায়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। এরপর গতকাল সকালে মামাতো বোন কোকিলা রায়কে নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে উভয়ে মারা যায়।
মিনাক্ষী রায়ের বাবা জগেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘আমার মেয়েটি দেখতে খুব সুন্দর ছিল। বেঁচে থাকবে না বলেই হয়তো ভগবান তাকে এত সুন্দর করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল। এবারের পূজায় মেয়েটি আমার খুব আনন্দ করেছে। নতুন জামা গায়ে দিয়ে মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েই সব সর্বনাশ হয়ে গেল।’
কোকিলার বাবা দীনবন্ধু রায় কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমার সব শেষ। ইচ্ছে ছিল মেয়েটিকে ডাক্তার বানাব। ওর পড়াশোনার প্রতি খুব আগ্রহ ছিল।’

Print Friendly

উপদেষ্টা সম্পাদক : আরিফ নেওয়াজ ফরাজী বাদল

সম্পাদক : হাবিবুল্লাহ মিজান

মোবাইল : ০১৫৩৪৬০৪৪৭৬, ই-মেইল : mizandeshi@gmail.com