Home / শীর্ষ অপরাধ / নোয়াখালীতে সংঘর্ষে হিজবুত তওহিদের দুই কর্মী নিহত, ৮টি বসতঘর ও ২৫টি মোটরসাইকেলে আগুন

নোয়াখালীতে সংঘর্ষে হিজবুত তওহিদের দুই কর্মী নিহত, ৮টি বসতঘর ও ২৫টি মোটরসাইকেলে আগুন

অল ক্রাইমস তিভিঃ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার চাষির হাট ইউনিয়নের পোকরা গ্রামে আজ সোমবার দফায় দফায় সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন বলছেন, গ্রামীবাসীর সঙ্গে উগ্রপন্থী সংগঠন হিজবুত তওহিদের সংঘর্ষে ওই সংগঠনের দুই সদস্য নিহত হন।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায় হিজবুত তওহিদকে এলাকাছাড়া ও তাদের একটি মসজিদের নির্মাণকাজ বন্ধ করতে দফায় দফায় সংঘর্ষে, হিজবুত তওহিদের দুই কর্মী নিহত
দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং বেশ কিছু বাড়িঘর ও মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) ইলিয়াস শরীফ জানান, নিহত দুজন হলেন ইবরাহিম রুবেল (৩২) ও সোলেমান খোকন (২৮)। তাঁরা হিজবুত তওহিদের কর্মী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে হিজবুত তওহিদের নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের আমির নিজাম উদ্দিন দাবি করেন, ওই সংঘর্ষে তাঁর শ্বশুর আবদুস সোবহানসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পোকরা গ্রামে হিজবুত তওহিদের ডাকা একটি কর্মিসভার পর থেকে স্থানীয় গ্রামবাসী ও হিজবুত তওহিদের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। আজ সকাল ১০ টার দিকে কয়েক শ গ্রামবাসী হিজবুত তওহিদকে এলাকাছাড়া ও তাদের একটি মসজিদের নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সোনাইমুড়ি থানার পুলিশ তাদের পথরোধ করে বিরোধটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। পরে বেলা ১১টার দিকে গ্রামবাসী আবারও জড়ো হয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হয়। পথে চাষির হাট নতুন বাজারে হিজবুত তওহিদের কর্মীরা গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালান। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে আশপাশের গ্রাম থেকেও লোকজন এসে সংঘবদ্ধ হয়ে হিজবুত কর্মীদের ওপর হামলা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এরপর বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে। এ সময় গ্রামবাসী হিজবুত তওহিদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত পোকরা গ্রামের একটি বাড়িসহ দুটি বাড়ির সাত-আটটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সময় তারা বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হিজবুত কর্মীদের ২৫টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। এই সংঘর্ষের একপর্যায়ে হিজবুতের দুই কর্মী নিহত হন। পরে কোণঠাসা হয়ে হিজবুতের কর্মীরা গ্রামের একটি ফাঁকা ভবনে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে থানা ও জেলা সদর থেকে দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে বিকেল পাঁচটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধার করে হিজবুত তওহিদের অর্ধশতাধিক নারী ও পুরুষ কর্মীকে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮০ জন আহত হয়। আহত লোকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

Print Friendly

উপদেষ্টা সম্পাদক : আরিফ নেওয়াজ ফরাজী বাদল

সম্পাদক : হাবিবুল্লাহ মিজান

মোবাইল : ০১৫৩৪৬০৪৪৭৬, ই-মেইল : mizandeshi@gmail.com