এই মুহুর্তে পাওয়া..
Home / জাতীয় / জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের অনুষ্ঠান ঘিরে ক্ষোভ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের অনুষ্ঠান ঘিরে ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার, অল ক্রাইমস টিভি,ঢাকা

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের আজকের অনুষ্ঠানে সরকারপন্থী অনেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকেও অংশগ্রহণ করতে না দেয়ায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ এবং অভিমান প্রকাশ করেছেন।
অনেকে সতের বছর ধরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরিতে যোগ দিয়েও, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এবং রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের নিজে উপস্থিত ছিলেন এমন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারায় প্রচণ্ড রাগ, ক্ষোভ এবং অভিমানে টিভিতেও অনুষ্ঠানের সংবাদ দেখা থেকে বিরত থেকেছেন বলে অল ক্রাইমস টিভিকে জানিয়েছেন। বঞ্চিতরা আগামী কালের পত্রিকাতেও অনুষ্ঠানের সংবাদ পড়বেন না মনের ভিতর তীব্র কস্টে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্টার আরতী বিশ্বাস, অমিত কুমার সাহা, স্বর্ণময়ী সাহা, ইয়াসমিন চৌধুরী,ছালমা পারভীন, দিলরুবা বেগম, জিনাত আরা রোজি, ইয়াসমিন চৌধুরী, আতাউর রহমান, জেনিফার ইয়াসমিন, সহকারী রেজিস্টার জেসমিন আরা মৌসমী, শাজাহান মাস্টার, শান্তি বর্মণ এবং লিটনসহ অনেকে দাওয়াত কার্ড পাননি।এদের অনেকেই শিক্ষা জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল এবং অনেক দলীয় পদবীতে ছিলেন।
কিন্তু সেকশন অফিসারের সমমর্যাদার প্রভাষক অনিতা হেলেন, শাহেদা তাহের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের কার্ড পেয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। শুধু তাই না, সেকশন অফিসার বাকী বিল্লাহকেও কার্ড দেয়া হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বস্ত সূত্র অল ক্রাইমস টিভিকে জানিয়েছে, কোন রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভিসি,ভিসির পিএস, সচিব এবং ভিসির ঘনিষ্ঠ লোকদেরকেই বেছে বেছে অনুষ্ঠানের দাওয়াত কার্ড দেয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদের সাথে রাতে ফোনে যোগাযোগ করতে তাকে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও উনি ফোন ধরেননি।
ভিসির পিএস আবদুছ সাত্তারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,‘‘এই সব বিষয়টি রেজিস্টার দেখেন। আমি স্বেছাসেবক হিসাবে বাইরে ছিলাম।’’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন বলেন,‘‘আমি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলি না।’’

এদিকে অনুষ্ঠানে বক্ততায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে একে অপরের পরিপূরক অভিহিত করে কষ্টার্জিত গণতন্ত্র যাতে কোনভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে, কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে সকলে প্রচেষ্টা চালাবেন এবং গণতন্ত্র ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অগ্রাযাত্রা অব্যাহত রাখতে দল-মত নির্বিশেষ সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে সরকার অনেক কর্মসূচি নিয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা, আত্মসমালোচনা ও সহযোগিতা এবং একই সঙ্গে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি স্নাতক অর্জনকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আপনারা এখন দেশের উন্নত জনশক্তি এবং আমি আশা করি আপনারা আপনাদের অর্জিত জ্ঞান ও মেধা মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করবেন।
আপনারা আপনাদের বিবেক দিয়ে কাজ করবেন। আপনারা অবশ্যই দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষার্থে অগ্রাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখবেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু সুখী-সমৃদ্ধ ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে তিনি অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পুনর্গঠনের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু জ্ঞানভিত্তিক ও কর্মমুখী সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর পথ অনুসরণ করে দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে শিক্ষার সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিপূরক শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শিক্ষাকে সেশনজট মুক্ত রাখা এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড সম্প্রসারণে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেন।
তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষা কার্যক্রমে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দেন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

Print Friendly

উপদেষ্টা সম্পাদক : আরিফ নেওয়াজ ফরাজী বাদল

সম্পাদক : হাবিবুল্লাহ মিজান

মোবাইল : ০১৫৩৪৬০৪৪৭৬, ই-মেইল : mizandeshi@gmail.com