Home / শীর্ষ অপরাধ / একই আশ্রয়ে ছিলেন সুব্রত-নূর হোসেন!

একই আশ্রয়ে ছিলেন সুব্রত-নূর হোসেন!

Noor-Subrata
হাবিবুল্লাহ মিজান,অল ক্রাইমস টিভিঃ কলকাতার নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন বাগুইহাটির যে ভবন থেকে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আসামি নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই একই ভবন থেকে ২০১২ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাংলাদেশের পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন।

ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপার্টমেন্ট নামের ওই ভবনের পাঁচতলার যে ফ্ল্যাট থেকে দুই সহযোগীসহ নূর হোসেন গ্রেপ্তার হয়েছে, তার মালিককেও এখন খুঁজছে কলকাতা পুলিশ।

একই স্থান থেকে দুই অপরাধী ধরা পড়ায় ওই স্থানটির সঙ্গে বাংলাদেশের অপরাধজগতের শক্ত যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তার।

তিনি বলেন, “বাইন (সুব্রত) দুই বছর আগে এই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে জাল মুদ্রার ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছিল।”

অবশ্য সুব্রত বাইন এর আগেও একবার নেপালে গ্রেপ্তার হয়েছিল, কিন্তু সেখান থেকে সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

কলকাতার এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, কলকাতা পুলিশের অনেক কর্মকর্তাই এসব বাংলাদেশি অপরাধীদের আটক না করে উল্টো জাল মুদ্রা ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে ব্যবহার করে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

খন্দকার ইসলাম জয়, পিচ্চি হান্নান, জাফর মানিকের মতো বাংলাদেশের বড় বড় সন্ত্রাসী ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপার্টমেন্টে যে বিভিন্ন সময় ছিল, সে ব্যাপারেও তথ্য থাকার কথা জানিয়েছেন এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
“কিন্তু আমরা যখনই এসব সন্ত্রাসীর অবস্থান সম্পর্কে কলকাতা পুলিশকে তথ্য দিয়েছি, তখনই তারা ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে অভিযান চালাতে গড়িমসি করেছে।”

এসব সন্ত্রাসীদের মধ্যে অনেকের রাজনৈতিক যোগাযোগও ছিল বলে মনে করেন তিনি।

অনেকদিন ধরেই কলকাতাকে নিরাপদ স্বর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলা সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য অভিযান চালাতে অনেকবারই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, “এসব সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে আমরা আমাদের সাধ্যমত তথ্য সংগ্রহ করলেও কোনো রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু কোনো রাজ্য ও নগর পুলিশ যদি বাংলাদেশি সন্ত্রাসীদের ধরার ব্যাপারে আগ্রহী না হয়, তাহলে আমাদের খুব বেশি কিছু করার নেই।”

ভারতের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং কলকাতায় এসব সন্ত্রাসী এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের অবৈধভাবে অবস্থানের বিষয়ে ব্রিফিং করবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে যে ৫০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগী গ্রেপ্তার হয়েছে, তার মালিক সীমা সিংয়ের অবস্থান এখনো সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন, সীমা সিং মূলত স্বামীর সঙ্গে গড়িয়ায় অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। আর ইন্দ্রপ্রস্থের ফ্ল্যাটটি ভাড়া দেন।

কলকাতা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগী গত কয়েক সপ্তাহে বিমানবন্দর সংলগ্ন বাগুইহাটি-কাইখালী এলাকার কয়েকটি বারে নিয়মিত যাতায়াত করেছেন। কিন্তু চিকিৎসার কথা বলে তারা ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন।

Print Friendly

উপদেষ্টা সম্পাদক : আরিফ নেওয়াজ ফরাজী বাদল

সম্পাদক : হাবিবুল্লাহ মিজান

মোবাইল : ০১৫৩৪৬০৪৪৭৬, ই-মেইল : mizandeshi@gmail.com